সরকারিভাবে আমন ধান ক্রয়ে অনিয়ম, বঞ্চিত প্রকৃত কৃষকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ১০:২১ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

মৌলভীবাজারের রাজনগরে সরকারিভাবে আমন ধান ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষি অফিসের লোকজনের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে একটি চক্র প্রকৃত আমন চাষিদের বাদ দিয়ে কৃষক তালিকা তৈরি করেছে। এতে ক্ষুব্ধ প্রকৃত আমন চাষিরা তালিকা বাতিল করে প্রকৃত চাষিদের নিয়ে নতুন তালিকা করার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর সরকারিভাবে উপজেলা থেকে এক হাজার ৪১৭ টন আমন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যে বিক্রেতা তালিকায় উপজেলার সাড়ে ৯ হাজার কৃষক তালিকাভুক্ত হন। ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তারা এই তালিকা প্রস্তুত করেন। সেই তালিকা থেকে লটারি করে ১ হাজার ৪১৭জন কৃষক মনোনীত হন।

প্রান্তিক কৃষকরা অভিযোগ করেন, মূল তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বরং মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গড়ে ওঠে একটি সিন্ডিকেট চক্র। এই চক্র আমন চাষিদের বাইরে বোরো চাষি, সবজি চাষিদের কৃষি কার্ড কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে এদের তালিকাভুক্ত করে।

তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, একজন কৃষকের নাম একাধিকবার এসেছে। একই মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করেছেন একাধিকজন। এর মধ্যে একটি মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করেছেন ৫৭ জন। উত্তরভাগ ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের ১৫৮ জন কৃষকের অর্ধকের বেশি ভুয়া।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ- একটি চক্র আমন চাষ করেনি এমন চাষিদের কার্ড অল্প টাকায় ক্রয় করে বিক্রেতা তালিকতায় নাম তুলেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, শুধুমাত্র ফতেহপুর ইউনিয়নে লটারিতে অংশ নেয় ২২৫ জন কৃষক। এর মধ্যে মনোনীত হন ৩৬ জন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে যাচাই করে দেখা যায় এর মধ্যে ২০ জনই ভুয়া। যারা আমন চাষি নয়, আবার কেউ কেউ বিদেশে থাকেন। যাচাই বাচাই করে যারা ভুয়া তাদেরে বাদ দেয়া হচ্ছে বলেও জানায় কৃষি অফিস। উপজেলার বাকি সাটি ইউনিয়নেও একই চিত্র ।

moulvibazar02.jpg

ফতেহপুর ইউনিয়নের ছোয়াব আলী গ্রামের কৃষক জলাল মিয়া বলেন, যারা মনোনীত হয়েছেন তাদের অধিকাংশের কৃষি কার্ড হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। কোনো কোনো কৃষককে ৪০০-৫০০ টাকা দিয়েও কার্ড হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এসব কার্ড লটারিতে মনোনীত হলে সাধারণ কৃষকদের থেকে অল্প টাকায় ধান কিনে সিন্ডিকেট চক্র সরকারের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে দিচ্ছে।

গোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক বদরুল আলম ও আয়াছ মিয়া বলেন, আমন চাষিদের তালিকা করার বিষয়টি প্রকৃত চাষিদের জানতেই দেয়া হয়নি। ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তারা সিন্ডিকেট চক্রকে নিয়ে গোপনে এই তালিকা করেছেন। ফলে ধান বিক্রয়ে সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত চাষিরা।

রাজনগর উপজেলা কৃষি কর্মকতা মো. শাহাদুল ইসলাম তালিকায় অসংগতির অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, লটারিতে নির্বাচিত কৃষক তালিকা অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রকৃত আমন চাষি না হলে কার্ড জব্দ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক কার্ড জব্দ করা হয়েছে। আর তালিকা তৈরি করার কাজে জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে।

উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। অনিয়মের অভিযোগ শুনার পর আমন ধান বিক্রয়ের আরেকটি কৃষক তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লটারিতে যারা মনোনীত হয়েছেন তাদের মধ্যে যাচাই-বাচাই করে প্রকৃত চাষিদের ধান কেনা হচ্ছে। পরবর্তীতে সংশোধিত তালিকা থেকে আরেকটি লটারি করা হবে। তখন আর প্রকৃত আমন চাষিরা বঞ্চিত হবেন না। কীভাবে ভুয়া কৃষক তালিকায় ঢুকেছে তা নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং সিন্ডিকেটকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।

রিপন দে/আরএআর/এমএস