ছাত্রলীগ নেতার হাতুড়িপেটায় হাত ভাঙল কলেজছাত্রের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৬:৫৯ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২০
ছাত্রলীগ নেতার হাতুড়িপেটায় হাসপাতালে ভর্তি কলেজছাত্র দাউদ ইব্রাহীম

ছাত্রলীগ নেতার হাতুড়িপেটায় শরীয়তপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দাউদ ইব্রাহীমের বাম হাত ভেঙে গেছে। তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের দুবাই প্লাজার সামনে এ ঘটনা ঘটে। শরীয়তপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ওরফে শুভ ঢালীর নেতৃত্বে দাউদ ইব্রাহীমকে হাতুড়িপেটা করা হয়।

পুলিশ ও কলেজ সূত্র জানায়, রোববার সকালে শরীয়তপুর সরকারি কলেজ চত্বরে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। তখন বিষয়টি কলেজের ছাত্রলীগ নেতারা মিটমাট করে দেন। দুপুর ১টার দিকে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী দাউদ ইব্রাহীমকে শহরের দুবাই প্লাজার সামনে একা পেয়ে দ্বাদশ শ্রেণি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শুভ ঢালীর নেতৃত্বে মারধর করা হয়।

এ সময় দাউদ ইব্রাহীমকে হাতুড়ি দিয়ে পেটান ঢালী ও তার সহযোগী জহিরুল ইসলাম, বাঁধন, রিফাত ও ফাহিম। এতে দাউদ ইব্রাহীমের বাম হাত ভেঙে যায়। সেই সঙ্গে ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে তার। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন সহপাঠীরা।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মফিজুর রহমান স্বপন বলেন, দাউদ ইব্রাহীমের বাম হাতের কনুই ভেঙে গেছে। দু-একদিনের মধ্যে তার অস্ত্রোপচার করতে হবে। হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর কারণে আঘাতটা মারাত্মক হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ওরফে শুভ ঢালী, জহিরুল ইসলাম, বাঁধন, রিফাত ও ফাহিমের মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে। এজন্য তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শরীয়তপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারী বলেন, রোববার সকালে কলেজে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে মারামারির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আমরা মিটমাট করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারপর কেন একজন নিরীহ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়া হল তা আমি বুঝতে পারছি না। অভিযোগ যেহেতু একজন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে সেহেতু তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দাউদ ইব্রাহীমের বাবা শহীদুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে মারামারি ও কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। তারপরও ছাত্রলীগ নেতা আমার ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছে। আমরা সন্ত্রাসের কাছে অসহায়, এখন আর কি করব? এভাবে মার খাওয়া ছাড়া আমাদের কি করার আছে।

পালং মডেল থানা পুুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে কলেজের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়ার ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখব আমরা। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মো. ছগির হোসেন/এএম/এমকেএইচ