অসময়ের ভাঙনে পদ্মার পেটে ফসলি জমি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ১১:৪৩ এএম, ২৩ জানুয়ারি ২০২০

পদ্মা নদী বিধৌত জেলা রাজবাড়ী। এ জেলার ৮৫ কিলোমিটার অংশে রয়েছে প্রমত্তা পদ্মা নদী। বর্ষা মৌসুমে পদ্মার ভাঙনে শতশত বিঘা ফসলি জমি ও বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ বছর বর্ষা মৌসুমের ভাঙনের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই অসময়ের নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা, দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বিস্তৃর্ণ এলাকার ফসলি জমি। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন পদ্মাপারের বাসিন্দারা।

জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের ছোট ঝলো, বড় ঝলো, রুপপুর, গোড়ামারা, কাওয়ালজানি, চর বরাট, দেবগ্রামের দেবগ্রাম, আজিজ সরদারপাড়া, মঈনউদ্দিন শেখেরপাড়া, হোসেন মোল্লারপাড়া, আবেদ শেখেরপাড়া ও দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার ফসলি জমিতে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব জমিতে বেগুন, টমেটো, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, করল্লাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন কৃষকরা। গত এক মাসের ভাঙনে কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। জমি ও ফসল হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়ছেন কৃষকরা।

padma

এদিকে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কার্যক্রম না থাকলেও দৌলতদিয়া ঘাট সংশ্লিষ্ট এলাকা হওয়ায় বিআইডব্লিউটিএ ভাঙন রোধে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) প্রণয়ন করেছে। যা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে দৌলতদিয়া ঘাটের ভাটিতে ২ কিলোমিটার ও উজানে ৪ কিলোমিটার এলাকায় কাজ করা হবে।

কৃষকরা বলেন, নদীর পারে ভালো সবজি হয়, যে কারণে অনেক টাকা খরচ করে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছিলাম। কিন্তু শুকনোর সময় এমন ভাঙন আগে কখনও দেখিনি। কয়েক সপ্তাহের ভাঙনে অনেক জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। এসব জমিতে কাঁচা মরিচ, বেগুন, করল্লা, টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছিলাম। যে জমিতে ফসল ফলিয়ে সংসার চালাই সেই জমি এখন নদীতে। সংসার চালানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে। সরকার যদি নদী শাসন করে দিতো তাহলে যেটুকু জমি আছে তা চাষাবাদ করে আমরা বাঁচতে পারতাম।

padma

দেবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, এ বছরের ভাঙনে প্রায় এক হাজার বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৯৪টি পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে দিয়েছেন। শুষ্ক মৌসুমের আকস্মিক ভাঙনে অনেক কৃষকের ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। এ বিষয়টিও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকল্পের কাজ দ্রুত হলে দেবগ্রাম ইউনিয়ন রক্ষা করা সম্ভব।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে হঠাৎ গোয়ালন্দ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই মুহূর্তে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরিভাবে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে বিআইডব্লিউটিএ একটি ডিপিপি প্রণয়ন করেছে। ওই প্রকল্পটি পাস হলেই ভাঙন এলাকায় কাজ শুরু করা হবে। এতে দৌলতদিয়া ঘাটের ভাটি ও উজানে মোট ৬ কিলোমিটার এলাকায় কাজ হবে। বিআইডব্লিউটিএ প্রকল্প অনুমোদনের সব কাজ করলেও মূল কাজ পানি উন্নয়ন বোর্ড করবে।

padma

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, এ বছর বর্ষাকালে ৫ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন হয়েছিল। এতে প্রায় ৭৩৬টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন শুকনো মৌসুমে গোয়ালন্দের বেশ কয়েকটি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ নদী ভাঙন রোধে কাজ করে। বিআইডব্লিউটিএ একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর কাজ আগামী বছর শুরু হবে। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৭ কিলোমিটার ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আশা করছি ২০২০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন হবে।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়ার কার্যক্রম চলছে। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

রুবেলুর রহমান/আরএআর/জেআইএম