শতবর্ষী সেই বৃদ্ধাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্ধার হওয়া শতবর্ষী বৃদ্ধাকে ১৭ দিন পর তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই বৃদ্ধার নাম রাহেলা খাতুন। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত নবী মণ্ডলের স্ত্রী।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে স্বজনদের কাছে রাহেলা খাতুনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে রাতে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে তাকে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, রহনপুর পৌর মেয়র তারিক আহমদ, রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হাবিবুর রহমান, ওই বৃদ্ধার ছেলে আবুল কাশেম, পুত্রবধূ রহিমা বেগম, রামচন্দ্রপুর গ্রামের ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন এবং প্রতিবেশী মহিউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
বৃদ্ধার ছেলে আবুল কাশেম জানান, অক্টোবরের শেষ দিকে যশোরের বেনাপোলে তার ছোট ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন তার মা। এর কয়েক দিন পর তার ভাই মাকে বাসে তুলে দেন বাড়ি ফেরার জন্য। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ।

গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি যে শতবর্ষী এই বৃদ্ধা কাশেমের মা। আমরা বৃদ্ধাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছি। তবে সেখানকার প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে শতবর্ষী ওই বৃদ্ধার অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকার খবর- প্রচার হলে গত ১২ জানুয়ারি রাতে রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই তৌহিদ মণ্ডল ও ডিএসবি সদস্য নুরুন্নবী তাকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে রহনপুর পৌরসভার মেয়র তারিক আহমদ তার দেখাশোনা করে আসছিলেন।

গোমস্তাপুর উপজেলা প্রশাসন ওই বৃদ্ধার সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার প্রচারণা চালায়। এরই সূত্র ধরে তার স্বজনরা গত সোমবার গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলেও মঙ্গলবার তার পরিচয় পাওয়া যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে নিতে আসা স্বজনরা ও জনপ্রতিনিধি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে রাত ৯টার দিকে বাড়ির পথে রওনা হন।
মোহা. আব্দুল্লাহ/আরএআর/জেআইএম