অসহায় বৃদ্ধের বয়স্কভাতার টাকা তুলে নিলেন ইউপি সদস্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৩:১৪ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

অসহায় এক বৃদ্ধের বয়স্কভাতার ৬ মাসের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্য মধুসুদন মন্ডলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের। অসহায় শহিদ সরদার ওই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মাছখোলা ক্লাব মোড় এলাকার বাসিন্দা।

বয়স্কভাতার কার্ডের টাকা না পেয়ে গত চার মাস ধরে ঘুরছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে। কিন্তু আজও কোনো সুরহা হয়নি। বাধ্য হয়ে ওই বৃদ্ধ হাজির হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে।

শহিদ সরদার পরের জমিতে ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন সেখানে। শ্রমিকের কাজ করে জীবন চলে তার। ২০১৩ সালে একটি বয়স্কভাতার কার্ড পান তিনি। এ কার্ড নিয়েই পড়েছেন বিপাকে।

নিজের অসহায়ত্ব ও বয়স্কভাতার কার্ডের টাকা চুরির বিষয়ে শহিদ সরদার জাগো নিউজকে বলেন, অন্যের জমিতে ছোট্ট একটি ঘর বেঁধে বসবাস করি। নিজের কোনো জমি জায়গা নেই। দিনমজুরের কাজ করে জীবন চালাই। আমার অসহায়ত্ব দেখে ও বয়স বেশি হওয়ায় আমাকে একটি বয়স্কভাতার কার্ড করে দেয়া হয়। বছরে একবারে তিন হাজার টাকা পাই। আবার কখনও ৬ মাসে ১৫শ করে টাকাই পাই। তবে গত ৬ মাসের টাকা আমি পাইনি। আমার টাকা তুলে নিয়েছেন মধু মেম্বার। টাকা তুলে নেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে নলতা ব্রক্ষরাজপুর জনতা ব্যাংকে গিয়েছিলাম। ব্যাংক থেকে ম্যানেজার বলেছে, আপনার টাকা মেম্বার নিয়ে গেছে।

Satkhira-1

তিনি আরও বলেন, এরপর মধু মেম্বারের কাছে গেলে ১৫শ টাকা দেয়ার কথা বলে চার মাস ধরে ঘুরাচ্ছে। চেয়ারম্যানকে বলেছি, চেয়ারম্যান বলেছে যেভাবে পারো আদায় করে নাও। আমি আবার টাকা ফেরত চাই। গরিব মানুষের টাকা চুরির জন্য মেম্বরের শাস্তি চাই।

তবে বৃদ্ধের বয়স্কভাতার টাকা উত্তোলনের বিষয়ে ফিংড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মধুসুদন মন্ডল বলেন, আমি কারও টাকা তুলে নেয়নি। আর ব্যাংক একজনের টাকা আমার কাছে দেবে কেন?

এ বিষয়ে জানতে ফিংড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, সাতক্ষীরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেবাশীষ সরদার বলেন, বৃদ্ধের বয়স্কভাতার টাকা মেম্বার তুলে নিল কীভাবে? সমাজসেবা অধিদপ্তর শুধু তালিকা প্রস্তুত করে দেয়। পরে নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লেনদেন হয়। মেম্বার টাকা চুরি বা আত্মসাৎ করলে দায়ী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও মেম্বর। বিষয়টি সমাজসেবার স্থানীয় কর্মকর্তাকে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হবে।

তবে এ বিষয়ে জানতে জনতা ব্যাংকের নলতা ব্রক্ষরাজপুর শাখায় যোগাযোগ করা হলেও ব্যাংক ম্যানেজার ফোন রিসিভ করেননি। তবে শহিদ সরদারকে ব্যাংক ম্যানেজার জানিয়েছেন, টাকা মেম্বার তুলে নিয়ে গেছে। আমাদের কিছু করার নেই।

আকরামুল ইসলাম/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।