রোজার মধ্যেও ফেনীতে কৃষকের ধান কেটে দিলো যুবলীগ-ছাত্রলীগ
শুধুমাত্র ফটোসেশনই নয়, প্রকৃত অর্থেই অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে ফেনীর দাগনভূঁইয়া উপজেলার ১নং সিন্দুরপুর ইউনিয়নের যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। রোজা রেখেও কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে অত্র ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের এই দুই অঙ্গসংগঠন। আর সবকিছুর তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর নবী।
করোনার কারণে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে একে তো শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে অনেক কৃষক পড়ে গেছেন চরম আর্থিক সঙ্কটে। ফলে জমিতে বোরো মৌসুমের ধান পেকে যাওয়ার পরও সেই ধান ঘরে তুলতে পারছেন না সেই অসহায় কৃষকরা।
বোরো মৌসুমে শ্রমিকের অভাবে যেন কৃষকের ধান জমিতে পড়ে না থাকে সে জন্য সারা দেশের প্রশাসনের সঙ্গে আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনকে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলতঃ এ কারণেই নিজ এলাকার অসহায় কৃষকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ১নং সিন্দুরপর ইউনিয়নের যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

শুক্রবার, রমজান শুরুর আগেরদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ২৫ থেকে ৩০ জন নেতা-কর্মী দুইজন কৃষকের প্রায় ১০০ শতাংশ জমির ধান কেটে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে। ক্ষেত্রবিশেষে কৃষকের ধান মাড়াইও করে দিয়েছে তারা।
ওইদিনই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর নবী জানিয়েছিলেন, তার ইউনিয়নে অসহায় কৃষকদের ধান বাড়িতে না ওঠা পর্যন্ত ছাত্রলীগ, যুবলীগ মাঠে থাকবে। যেখানেই যার প্রয়োজন, সেখানেই তাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তারা।

কথা রেখেছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। তার নেতৃত্বে রমজানেও প্রতিদিন কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে তুলে দিচ্ছেন যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
আজ রমজানের তৃতীয় দিনও ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে তিন দলে ৭০ থেকে ৮০ জন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বেশ কয়েকজন অসহায় কৃষকের ধান কেটে বাড়িয়ে তুলে দিয়ে এসেছে। চেয়ারম্যান নুর নবী নিজেই জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘তিন গ্রামে প্রায় ১৬০ শতাংশ জমির ধান আমরা কেটে অসহায় কৃষকের বাড়িতে তুলে দিয়ে এসেছি। শুধু আজ নয়, আমরা গত চারদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’

সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামে ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবদুর রহিম পিন্টু এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জাকের হোসেনের নেতৃত্বে একজন অসহায় বর্গাচাষী কৃষকের ধান কেটে তার বাড়িতে তুলে দিয়ে আসা হয়।
নোয়াদ্দা গ্রামে যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ সম্মিলিতভাবে আরেকজন বর্গাচাষী কৃষকের ধান কেটে দিয়েছে। মাছিমপুর গ্রামে ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে তুলে দিয়ে এসেছেন।

তিনটি গ্রামেই ধানকাটা কার্যক্রম তদারকি করেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর নবী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ফেনী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদ ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতনের সহযোগিতা এবং প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে আমরা নিজেদের এলাকায় অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়াচ্ছি। এখনও অনেক কৃষকের পাকা ধান জমিতে রয়েছে। প্রকৃত গরীব-অসহায় কৃষকদের ধান ঘরে না ওঠা পর্যন্ত আমরা তাদের পাশে থেকে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাবো।’
আইএইচএস/