হাওরের কৃষকদের নতুন চ্যালেঞ্জ ধানের ন্যায্যমূল্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৯:৫০ পিএম, ০৩ মে ২০২০

করোনার প্রভাবে প্রথম দিকে ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দিলেও পরে তা কেটে যায়। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক বর্তমানে হওরে ধান কাটছেন। এছাড়া ৬২টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা হচ্ছে। ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক প্রতিদিন যে পরিমাণ জমির ধান কাটতে পারেন, একটি মেশিনেই তা সম্ভব হচ্ছে। শনিবার পর্যন্ত হাওরাঞ্চলে প্রায় ৯৫ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। আগামী তিন চার দিনের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা শেষ হবে। এখন বৃষ্টি বা বন্যা হলে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে ধারণা স্থানীয় কৃষকদের।

কিন্তু কৃষকদের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ কষ্টের ধানের ন্যায্যমূল্য আদায়। স্থানীয় বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, করোনার প্রভাবে এবার স্থানীয় বাজারগুলোতে মহাজনরা ধান কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সরকারিভাবে দ্রুত ধান ক্রয় শুরু না হলে প্রান্তিক কৃষকরা স্থানীয় হাট-বাজারে ও মহাজনদের কাছে কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হবেন। এলাকার বাজারে এখন প্রতি মণ ধান সর্ব্বোচ ৬০০ টাকা থেকে ৬৬৫ টাকা। এই দরে ধান বিক্রি করলে কৃষকের লোকসান হবে।

কৃষকদের দাবি, সরকার যদি ধানের বরাদ্দ বাড়িয়ে এখন পুরোদমে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে পারত, তাহলে ধানের বাজারে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।

খালিয়াজুরির পুরানহাটি গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, হাওরে এখন ধানকাটা প্রায় শেষের দিকে। এখন কৃষকের কাছে ধান আছে। কিন্তু আর কয়েক দিন পর এই ধান তাদের হাতে থাকবে না। ধান চলে যাবে ফড়িয়াদের হাতে। কারণ প্রান্তিক কৃষকরা মহাজনসহ বিভিন্নভাবে ঋণ নিয়ে ফসল ফলান। এখন ঋণ পরিশোধের জন্য ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন।

সরকারি দাম আর স্থানীয় বাজারের দামের মধ্যে অনেক তফাত। সরকারি ক্রয়ের পরিমাণ আরও না বাড়ালে বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন বলেন, জেলার ১০টি উপজেলায় ১৫ হাজার ৬৮৩ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের কথা রয়েছে। এছাড়া ৩৬ হাজার ৫২৪ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করার কথা। ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা ও আতপ চাল ৩৫ টাকা কেজি। গত ২৬ এপ্রিল থেকে ধান সংগ্রহের অভিযান শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এরমধ্যে মোহনগঞ্জে ধান সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে অন্য উপজেলাগুলোর তালিকা পেলে দ্রুত ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হবে।

netro2

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান জানান, হাওরাঞ্চলের ধান ৯০ ভাগ কাটা শেষ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই সব এলাকায় শতভাগ ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে। এখন আর বন্যার ঝুঁকি নেই।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম আরিফুল ইসলাম জানান, এ বছর বোরোর ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা ঘরে ফসল তুলতে পেরেছেন। কৃষি বিভাগকে বলা হয়েছে দ্রুত কৃষকদের তালিকা করে জমা দেয়ার জন্য। তালিকা পেলে দ্রুত ধান কেনা শুরু হবে।

জেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। এর মধ্যে জেলার ছোটবড় ১৩৪টি হাওরসহ নিম্নাঞ্চলে অর্ধেকের মতো জমি রয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১১ লাখ ১৯ হাজার ৬৪৩ মেট্রিক টন। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে ওই সব জমির পাকা বোরো ধান কাটতে শুরু করেন কৃষকরা। এর মধ্যে আগাম বন্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পাউবো পৃথকভাবে বিভিন্ন উপায়ে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটতে নির্দেশনা দেয়।

কামাল হোসাইন/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।