পরিচয়পত্র ও পিস্তল দেখিয়েও রক্ষা পেলেন না হাসানুজ্জামান
যশোরের কেশবপুরে গাঁজাসহ হাসানুজ্জামান নামে পুলিশের এক এসআইকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার রাতে আটকের পর মঙ্গলবার দুপুরে তাকে যশোর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
একই সাথে রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এসআই হাসানুজ্জামান যশোরের চৌগাছা থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলার সিংগা গ্রামের মৃত মোজাম্মেল সরদারের ছেলে।
কেশবপুর থানাধীন ভাল্লুকঘর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই দিবাকর মালাকার জানান, দুটি মোটরসাইকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ে আসা হচ্ছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে পুলিশ ১৫ জুন এলাকার চাঁদড়া গ্রামের পালপাড়া নূর মোহাম্মদের দোকানের সামনে অবস্থান নেয়। তবে এর আগে সোর্সের মাধ্যমে আসামিদের কাছ থেকে গাঁজা ক্রয়ের জন্য মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে তিনজন লোক আসে। মোটরসাইকেল দুটি আসার পরে তাদের কাছে ব্যাগে থাকা দুই কেজি এবং মোটরসাইকেলে সেটিং করা এক কেজিসহ মোট তিন কেজি গাঁজা ক্রেতা ছদ্মবেশে থাকা পুলিশের লোকজন হাতে নেন।
ভাল্লুকঘর ক্যাম্পের এসআই দিবাকর মালাকার আরও জানান, এক পর্যায়ে তার কাছে থাকা হ্যান্ডকাপ দেখে একজন দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে থাকা চাঁদড়া গ্রামের আবুল হোসেন মোড়লের ছেলে নাজমুল ইসলাম ওরফে রুহুল আমিন নামে একজনকে আটক করা হয়। আর এসআই হাসানুজ্জামান নিজেকে এই সময় পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নিজের পরিচয় পত্র ও পিস্তল দেখান। তখন হাসানুজ্জামানের কাছে থাকা সরকারি পিস্তল ও পরিচয় পত্র হস্তান্তর করতে বলেন।
এরই মধ্যে এসআই হাসানুজ্জামান দৌঁড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তাকে আটক করা হয়। এঘটনায় তিনি (দিবাকর মালাকার) বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় নাজমুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেশবপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ ওহিদুজ্জামান জানান, ১৫ জুন এসআই হাসানুজ্জামানকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার তাকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিচারক তাকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মিলন রহমান/এমএএস