নবনির্বাচিত এমপির প্রতি থুতু নিক্ষেপ, ক্ষোভে ফাটছেন নেতারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৯:৩৫ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

টেলিভিশন চ্যানেলের সরাসরি সম্প্রচারিত টকশোতে পাবনা- ৪ আসনের উপ- নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুজ্জামান বিশ্বাসকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়ে থুতু নিক্ষেপ করায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ঈশ্বরদীর রাজনীতি। কেউ বলছেন এটা গণতন্ত্র হত্যার বিরুদ্ধে হাবিবের উপযুক্ত প্রতিবাদ। আবার কেউ বলছেন তিনি নিজেই ভোট না দিয়ে গণতন্ত্র হত্যা করেছেন। এছাড়া এটা রাজনৈতিক গুরুর প্রতি শিষ্যের শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ বলেও মনে করেন কেউ কেউ। দু’একটি আওয়ামী সংগঠন এরই মধ্যে হাবিবকে ঈশ্বরদীতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে। আর অবিলম্বে ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে বলে তৃণমূলের আওয়ামী নেতারা জানিয়েছেন।

ঈশ্বরদীর প্রবীণ বেশ কিছু রাজনৈতিক ও অরাজনৈতক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজনৈতিক মাঠে নুরুজ্জামান বিশ্বাসের হাত ধরে উঠে আসেন হাবিবুর রহমান হাবিব। এখন তার প্রতি হাবিবের আচরণ অকৃজ্ঞতার শামিল। তবে অনেকের অভিমত হাবিব তার নিজস্ব ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠন নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন শুরু করেছে। আরও প্রতিবাদ কর্মসূচি আসছে বলে সংশ্লিষ্ট দলীয় সূত্র জানিয়েছে। হাবিবুর রহমানের শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছলিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অংগ সংগঠন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে ছলিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। সংবাদ সম্মেলনে ছলিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু মালিথা বলেন, ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার রাতে একিটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে আলোচনার এক পর্যায়ে নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাসকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্য ও শিষ্টাচার বহির্ভূতভাবে ‘থুতু নিক্ষেপ’ করে ন্যাক্কারজনক আচরণ করেছেন হাবিব।

তিনি আরও বলেন, নুরুজ্জামান বিশ্বাস এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় এবং তিনবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ত্যাগী, নির্যাতিত ও একজন সৎ নেতা হিসেবে এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। টিভিতে হাবিবের ধৃষ্ঠতাপূর্ণ আচরণের পর এলাকার আওয়ামী লীগসহ অংগ সংগঠনের সকল নেতা-কর্মীর মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও কর্মীদের সহিংস কোনো কর্মসূচি করতে না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হাবিবের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ ও ছলিমপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।

তিনি তার ভাষায় এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের জন্য হাবিবকে ক্ষমা প্রার্থনার শর্তারোপ করেন। হাবিব অবিলম্বে ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করা হবে বলেও তিনি জানান।

এ সময় ছলিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নায়েক আব্দুল কাদের, সহ-সভাপতি নূর তরিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম সরদার, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বারী, আলম মোহাম্মদ, ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ প্রাং, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গির আলম, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তামিমুল ইসলাম রিংকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]