প্রসূতির সঙ্গে নার্সদের এ কেমন আচরণ!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৪:৩৬ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

স্বাভাবিক প্রসব বেদনা ওঠার পরও সন্তান প্রসব না হওয়ায় প্রসূতি মর্জিনা খাতুনকে পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনরা। তখন রাত ১১টা। বাইরে প্রসূতি যখন প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত নার্সরা তখন ঘুমাচ্ছিলেন। প্রসূতির স্বজনরা বাধ্য হয়েই তাদের ডাকাডাকি করে ঘুম থেকে ওঠান। এতেই ক্ষুব্ধ নার্সরা প্রসূতি মর্জিনা খাতুনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফিরিয়ে দেন।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে রোগীর স্বজনরা গত ২৪ সেপ্টেম্বর চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী প্রসূতি মর্জিনা খাতুন চাটমোহর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের ইন্তাজ আলীর স্ত্রী।

অভিযুক্তরা হলেন- চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স আন্না রোজারিও, সেবিকা পারুল খাতুন ও আশা খাতুন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর চাটমোহর উপজেলার শাহাপুর গ্রামের ইন্তাজ আলীর স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের প্রসব বেদনা ওঠে। তবে স্বাভাবিকভাবে তার সন্তান প্রসব হয়নি। রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় তার খালা সালমা খাতুনসহ অন্যরা তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অনেক কষ্টে রাত ১১টার দিকে তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান। রোগীকে নিয়ে যাওয়ার পরে তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো ডাক্তার বা নার্সকে ওয়ার্ডে পাননি। তাদের না পেয়ে অসহায় স্বজনরা হাসপাতালের আয়ার সহায়তায় নার্সদের রুমের দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করেন। এ সময় দুইজন নার্স সেখানে ঘুমিয়ে ছিলেন। রোগীর স্বজনদের ডাকে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় তারা ক্ষুদ্ধ হন। এ সময় নার্স পারুল, আন্না রোজারিও এবং আশা খাতুন রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং হাসপাতাল থেকে রোগীসহ স্বজনদের তাড়িয়ে দেন।

এদিকে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাওয়ায় তার স্বজনরা দ্রুত তাকে নিয়ে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন।

প্রসূতি মর্জিনার খালা সালমা খাতুন বলেন, নার্সরা রুমে ঘুমিয়ে থাকায় অনেক ডাকাডাকি করলেও ওঠেননি। আমার ভাগ্নির (বোনের মেয়ে) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আমরা তাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিই। এ সময় আমাদের বিপদ দেখে একজন আয়া নার্সদের রুমের কাছে গিয়ে তাদের ডাক দেন। তারা (নার্স) ঘুম থেকে উঠে এসেই উচ্চস্বরে ডাকার অপরাধে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। সেখানে রোগীকে চিকিৎসা না দিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আামদের তাড়িয়ে দেন।

এদিকে অভিযুক্ত নার্সরা তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নার্স আশা খাতুন বলেন, ঘটনার সময় আমি ডিউটি করে এসে ওয়াশরুমে ছিলাম। আমার কক্ষ থেকে বের হতে দেরি হওয়ায় তারা নিজেরাই হাসপাতাল থেকে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। আমরা ভর্তি করার জন্য তাদের অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু রোগীর স্বজনরা আামদের কথা শোনেননি।

আরেক নার্স পারুল খাতুন বলেন, আমি জেনারেল ওয়ার্ডের সেবিকা। ওই সময় জরুরি বিভাগে অন্য রোগীর সেবায় ব্যস্ত থাকায় ওই রোগীর কাছে যেতে পারিনি। পরে শুনেছি রোগীর স্বজনরা রোগীকে অন্য কোথাও নিয়ে গেছেন।

সিনিয়র নার্স আন্না রোজারিও বলেন, আমি জেনারেল ওয়ার্ডে ডিউটিতে ছিলাম। হইচই শুনে গিয়ে দেখি রোগীর লোকজন রোগীকে নিয়ে চলে গেছেন।

এ বিষয়ে মানবাধিকার কর্মী ড. শাহনাজ পারভীন জানান, এটি একটি অমানবিক ঘটনা। সন্তান প্রসবের সময় একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে কঠিনতম সময়। বলা চলে তখন তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকেন। তাই বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই। কেউ আমার কাছে কোনো অভিযোগও দেননি। অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি, তবে লিখিত অভিযোগ এ পর্যন্ত হাতে আসেনি। এমন অনাকাঙিক্ষত ঘটনা সত্যিই কষ্টদায়ক। অভিযোগ হাতে পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরএআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]