একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না ইনশাআল্লাহ : পলক
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উত্তরের ঢলে সিংড়া পৌরসভাসহ জেলার ১২টি ইউনিয়নে লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমির ফসল এবং বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব বিপন্ন মানুষের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আশ্রয় এবং খাদ্যের নিশ্চয়তা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না ইনশাআল্লাহ। শনিবার সকালে সিংড়া থেকে বিলদহর পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন ও সোঁতিজাল উচ্ছেদ অভিযানকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তার সঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ ও পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহাসহ প্রশাসনের স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিংড়া পৌর এলাকার কতুয়াবাবড়ি পাটকোল থেকে বিলদহর পর্যন্ত ৮টি স্থানে সোঁতিজাল পাতার স্থান চিহ্নিত করে সেগুলো উচ্ছেদ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৃষ্ট বিপদ মোকাবিলা করা কঠিন। কিন্তু মানুষের সৃষ্ট বন্যার কারণে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেকদের সহযোগিতায় সোঁতিজাল উচ্ছেদ শুরু করা হয়েছে। আমি জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে তালিকা দিয়েছি এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
তিনি বলেন, এসব ব্যক্তি যে দলেরই হোক কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপাতত আশ্রয়হীন মানুষদের আশ্রয় এবং খাদ্যের নিশ্চিয়তার জন্য খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া যারা বাড়িঘর হারিয়েছেন তাদের নগদ সহায়তা করাসহ পর্যায়ক্রমে বাড়ি হারানো প্রত্যেককে বাড়ি তৈরি করে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার জনগণের সরকার। দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের পাশে এ সরকার অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

এসময় প্রতিমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সিংড়া পৌরসভার মেয়র আলহাজ মো. জান্নাতুৃল ফেরদৌস, শেরকোল ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সিংড়া পৌরসভার শোলাকুড়া এবং তাজপুর ইউনিয়নের হিয়াতপুর এলাকার ভাঙনে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে প্রতিরোধ করতে নির্দেশ দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের বন্যার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে ও হবে।
পুলিশ সুপার রিটন কুমার সাহা জানান, যারা বেআইনিভাবে নদীতে সোঁতিজাল পেতে বাঁশ ও কলফা এমনকি স্লিল প্লট দিয়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এসব ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনাসহ নিয়মিত মামলা দেয়া হবে।
রেজাউল করিম রেজা/এমএএস/জেআইএম