নির্বাচনের তিনদিন আগে যশোরে বিএনপির ৭ নেতার বাড়িতে তাণ্ডব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:১৬ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০২০

যশোর সদর উপজেলা নির্বাচনের তিনদিন আগে শনিবার গভীর রাতে বিএনপির কার্যালয় ও জেলা নেতাদের বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শহরের বিভিন্নস্থানে জেলা বিএনপির সাত নেতার বাড়িতে তাণ্ডব চালানো হয়।

একই সময় লালদীঘির পাড়ে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়ার অভিযোগ করেছেন নেতারা।

যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন আগামীকাল ২০ অক্টোবর। এ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে বিএনপি অভিযোগ করছে। তাবে আওয়ামী লীগ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

যশোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য সচিব সাবেরুল হক সাবু, সদস্য মিজানুর রহমান খান, আনিচুর রহমান মুকুল, গোলাম রেজা দুলু ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দুর্বৃত্তরা একাধিক প্রাইভেটকার, ২০টির অধিক মোটরসাইকেল নিয়ে জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের সাত নেতার বাড়ির সামনে গিয়ে ইট-পাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর ও ভাষায় গালিগালাজ করে। হামলাকারীরা নৌকার পক্ষে স্লোগানের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের মাঠে না নামার জন্য হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন খোকন।

জেলা যুবদলের প্রচার সম্পাদক এসকেন্দার আলী জনির অভিযোগ, রাত ২টার দিকে প্রথমে একটি মোটরসাইকেলে করে দুইজন এসে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়ায়। ওই সময় তিনি (জনি) উপনির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা থেকে ভোটারের স্লিপ তৈরির কাজ শেষে বের হন।

মোটরসাইকেল আরোহীরা তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে কোমর থেকে পিস্তল বের করে হুমকি দেয়। হামলাকারীদের একজন বলে, তোকে চার খণ্ড করে ফেলব, ভোট করা বের করছি।

jagonews24

তিনি বলেন, এ সময় আরও ২০টি মোটরসাইকেল ও দুইটি প্রাইভেটকার এসে দাঁড়ায় এবং আরোহীরা নেমে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং ভেতরে কয়েকজনকে মারপিট করে। তারা ভোটার তালিকা ও স্লিপ নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় কার্যালয়ের দুই প্রবেশ পথের দরজায় তালা লাগিয়ে যায়।

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়য়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, এ তাণ্ডবের সময় যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসিকে ফোন দিয়ে অভিযোগ করা হলেও তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। শুধু বলেন, আমি ফোর্স পাঠাচ্ছি।

খোকন আরও বলেন, এ সরকারের আমলে সব নির্বাচনেই এমনটা হচ্ছে। এ নির্বাচনেও তাই হলো। বিএনপি নির্বাচনের মাঠে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করে নির্বাচন ভোটার শূন্য করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ এ তাণ্ডব চালিয়েছে। এতে আমরা হতাশ হইনি। ভোটারদের নির্বাচন কেন্দ্রে আনতে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব আমরা।

তবে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় রয়েছি। আমার ধারণা এটা বিএনপির পাতানো খেলা। নির্বাচন আসলেই বিএনপি আগাগোড়া এমন করে। ভোটে পাস করতে পারবে না জেনে তারা এমন করে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করে।

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, রাতে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ পেয়েই ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়। বিএনপি এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মিলন রহমান/এমএএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]