১৫০ কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতে দেয়া হয়নি, অভিযোগ বিএনপির

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২০

যশোরে বিএনপির অভিযোগ আর দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভোটার বাড়তে থাকে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ থাকলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তেমন একটা দেখা যায়নি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নুরজাহান ইসলাম নীরা নৌকা ও বিএনপির নূর উন নবী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

বিএনপির অভিযোগ করেছে, ১৫০ কেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় যশোর জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ দিয়েছেন ধানের শীষ প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন।

অভিযোগপত্রে তিনি দাবি করেছেন, ১৫০ কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এ সময় পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পৌরসভার মধ্যে সেবাসংঘ স্কুল, সম্মেলনী স্কুল ও চুড়িপট্টি কেন্দ্রে থেমে থেমে বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টেবর) সকাল ৯টা থেকে উপজেলার উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। শুরুতে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ভোটার উপস্থিতি।

সকাল থেকেই যশোর শহরের সেবাসংঘ বালিকা বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টায় ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রাথী নুর জাহান ইসলাম নীরা। আর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপি প্রার্থী নূর উন নবী শংকরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন।

নীরা ছাড়াও সেবাসংঘ কেন্দ্রে ভোট দেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার, যশোর সদর আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল।

এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার নাজমুল হাসান জানান, নারী ও পুরুষ ভোটার মিলে এই কেন্দ্রের ভোটার ৬২০০। এখানে প্রায় ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে।

যশোর শহরের তারাপ্রসন্ন মহাবিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আজমির হোসেন বলেন, এই কেন্দ্রে ভোটার তিন হাজার ৭০০ জন। এখানে ১২টি বুথ রয়েছে।

এদিকে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকালে যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিংহ গ্রামে ধানের শীষের কর্মী সমথর্ক ও নৌকা প্রতীকের সমর্থকের মধ্য সংঘর্যে ধানের শীষের তিনজন কর্মী আহত হন। এদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে যশোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ ছিল। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।

যশোর সদর উপজেলার তৎকালীন চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার পদত্যাগ করে কেশবপুর সংসদীয় উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। যার কারণে চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হয়।

মিলন রহমান/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]