অবশেষে পৃথিবী ছাড়ল অগ্নিদদ্ধ শিশু আল আমিন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:৫২ পিএম, ২৩ অক্টোবর ২০২০
ফাইল ছবি

বাবা-মায়ের দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ে অগ্নিদগ্ধ শিশু আল-আমীন (৫) ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে। শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাকুড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে মারা যায় শিশুটি। দুই পরিবারের রশি টানাটানিতে একটি শিশুর করুণ মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বাকুড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে রহস্যজনক ভাবে অগ্নিদগ্ধের শিকার হয় শিশু আল-আমিন। রাতেই তাকে পরিবারের লোকজন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করেন চিকিৎসক।

১৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিছুটা সুস্থ হলে ১৮ অক্টোবর শিশুটির নানি সকিরন নেছা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এরপর শুক্রবার বিকেলে শিশুটি মারা যায়। ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালো অনেক অন্যায্যতার শিকার হওয়া শিশু আল-আমিন। তার করুণ মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞ আদালতে বাবা দাউদ সরদার ও নানি সকিরন নেছার দায়ের করা পৃথক মামলা থাকায় শিশুটিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে বলে জানান বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বরত অফিসার এস আই হাফিজুর রহমান।

প্রসঙ্গত, শিশুটি জন্মের পর অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় ২০১৫ সালে সকিরন নেছার দায়ের করা মামলায় দাউদ সরদার ৮ মাস ও তার স্কুল শিক্ষিকা মেয়ে রোকেয়া খাতুন ২৩ দিন জেল খাটেন। জামিনে মুক্তি পেয়ে শংকরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ধাবক ও ইউপি সদস্য মহসিন আলীর মাধ্যমে ৬ লাখ টাকার মাধ্যমে মিমাংসা হয় ওই ঘটনা।

এর প্রায় তিন বছর পর ওই শিশু বেঁচে আছে মর্মে তার বাবার দাবিতে আবারও মামলা করেন নানি সকিরন নেছা। এসময় দাউদ সরদার তার সন্তান দাবি করলে নানি সকিরন নেছা তাকে দিতে রাজি হয়নি। ফলে শিশুটির বয়স ১২ বছর পর্যন্ত তার নানির হেফাজতে থাকবে মর্মে বিজ্ঞ আদালত দাউদ সরদারকে এককালীন ৫ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দাউদ সরদার বিজ্ঞ আদালতে ৫ লাখ টাকা জমা দেন।

দাউদ সরদার ও তার পরিবার জানান, দু’দফায় তিনি ১১ লাখ টাকা দিয়েছেন। আগামী ১ নভেম্বর মামলার রায় হওয়ার কথা রয়েছে। শিশুটিকে নিয়ে তার নানা-নানি যশোর সদরের এড়েন্দা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। তারা কেউ গ্রামে থাকেন না। শিশুটির মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়েছে। এদিকে শিশুটি অগ্নিদদ্ধ হওয়ার পর বাবা দাউদ হোসেন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তাতে তার নানি সাকিরন নেছা ও মা তামান্না খাতুনকে আসামি করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে শিশু আল-আমিনের নানী সাকিরন নেছা নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, শিশু আল-আমিনের নানি সাকিরন নেছা ওই গ্রামের দাউদ সরদারের বাড়িতে কাজ করতেন। এজন্য তার কিশোরী মেয়ে তার মার সঙ্গে ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এ সময় দাউদ সরদার ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও পরে বিয়ের প্রলোভন দখিয়ে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। তবে দাউদ সরদার তা অস্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় কিশোরীর গর্ভের সন্তান দাউদ সরদারের। এ আল আমিনই সেই সন্তান।

মিলন রহমান/এমএএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]