বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘরের সড়ক নদীতে বিলীন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০

গড়াই-মধুমতির করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে যাওয়ার সড়কটির কয়েকটি স্থানসহ একাধিক বাড়ি।

ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরসহ ওই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি। ১১টি গ্রামীণ জনপদের বাসিন্দারা এখন মধুখালী উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

জানা যায়, গত ১০ বছর ধরে একটু একটু করে নদীর পার ভাঙছে। মধুখালী উপজেলার স্থানীয় কামারখালী ব্রিজের একপাশে গড়াই; অপরপাশে মধুমতি নাম নিয়ে সর্পিল নদীটি জেলার মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা ঘেঁষে বইছে। গত বছর থেকে এর ভাঙন তীব্র রূপ নিলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গত কয়েক বছর ধরে গণমাধ্যমে বীরশ্রেষ্ঠের বাড়ি যাওয়ার সড়কটি আংশিক ভেঙে যাওয়ার খবর প্রচার হয়। এরপর সড়কটি পরিদর্শনে বিভিন্ন সময়ে আসেন সাংসদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

jagonews24

তখন তারা অবিলম্বে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে বসতবাড়ি ও কৃষি জমিসহ সড়কের অসংখ্য স্থান ভেঙে গেছে।

একই সঙ্গে গয়েশপুর, চরগয়েশপুর, চরপুকুরিয়া, জারজানগর, সালামতপুর (বর্তমানে রউফনগর), গন্ধখালী, দয়ারামপুরসহ ১১টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ মধুখালী উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তারা হেঁটে, খাল নালা পার হয়ে জরুরি প্রয়োজনে শহরের যাতায়াত করছেন। ভাঙনে গৃহহারা হয়েছেন শতাধিক পরিবার। তাদের ভিটামাটি, কৃষি জমি, গাছ-পালা বিলীন হয়েছে।

এ বছর মধুমতির ভয়াবহ ভাঙনে কামারখালী বাজার থেকে সালামাতপুরে (বর্তমানে রউফনগর) অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে যাওয়ার সড়কটির কয়েক জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

ওই সড়কের গন্ধখালী গ্রামের মতিয়ার মোল্লারবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় সড়কটি বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাঁশ দিয়ে কয়েক বস্তা বালু ফেলেছেন ওই স্থানে। তার ওপর দিয়ে কোনোরকমে মানুষ হেঁটে যাতায়াত করছেন। গাড়ি নিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেক দর্শনার্থীকে ওই স্থান থেকে ফিরে যেতে হচ্ছে।

jagonews24

গন্ধখালী গ্রামের বাসিন্দা মতিয়ার মোল্লা বলেন, সড়কটির অধিকাংশ বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ভেঙে যাওয়া অংশে কিছু বালুর বস্তা ফেলেছেন। তার ওপর দিয়ে মানুষ চলাচল করছেন।

তিনি বলেন, আমার বাড়ি থেকে মাত্র ১০ হাত দূরত্বে নদী। যেকোনো সময় আমার বাড়ি বিলীন হয়ে যাবে। রাতে ঘুমাতে পারি না, কখন যেন ভেঙে নিয়ে যায় এই আতঙ্কে।

গন্ধখালী গ্রামের আরেক বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের জন্ম আমাদের এলাকায় হওয়ায় আমরা গর্ববোধ করতাম। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর এখানে হওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম এলাকার অনেক উন্নয়ন হবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। জাদুঘরে যাওয়ার সড়কটি বিলীন হয়ে যাচ্ছে, দেখার কেউ নেই।

তিনি আরও বলেন, অনেক দর্শনার্থী গাড়ি নিয়ে আসেন জাদুঘরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এই ভাঙন অংশে এসে তাদের ফিরে যেতে হয়। গাড়ি নিয়ে যাওয়ার কোনো অবস্থা নেই।

jagonews24

কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান বিশ্বাস বাবু বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে যাওয়ার সড়কটির গন্ধখালীসহ কয়েক স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর আগে বিভন্ন সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনরোধে জিওব্যাগ ফেলেছে। কিন্তু প্রতি বছরই নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। গন্ধখালী এলাকায় ভাঙনে সড়কটি বিলীন হয়ে গেছে। যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ভাঙন স্থানে সাময়িকভাবে বাঁশ ও বালুর বস্তা ফেলেছি। কোনোরকমে এলাকার মানুষ যাতায়াত করছেন।

মধুখালী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুরাদুজ্জামান মুরাদ বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরে যাওয়ার সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের খাস জমি দেয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। ভাঙন এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া মধুমতির ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বি কে সিকদার সজল/এএম/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]