উচ্ছেদ করা হলো ঐতিহ্যবাহী সংগঠন যশোর সাহিত্য পরিষদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ১১:১২ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০২০

শিল্প-সাহিত্য চর্চার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন যশোর সাহিত্য পরিষদের কার্যালয় ভেঙে ফেলা হয়েছে। সামনের সড়ক প্রশস্তকরণের অজুহাতে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ সেখানে উচ্ছেদ করলেও ভবনের বাকি অংশও ব্যহার করতে বাধা দিচ্ছে জেলা পরিষদ।

সাহিত্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, তাদেরকে উচ্ছেদ করতে পরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ হিসেবেই এমন তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দড়াটানা থেকে ঈদগাহ মোড় পর্যন্ত সড়কটি সংকুচিত থাকায় সেটা প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। এজন্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যালয়ের সামনের তিনফুট জায়গা রাস্তার জন্য দিতে সম্মতি দেন। এরপর তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধুমাত্র ওই তিনফুট জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

যশোর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শাহিন ইকবাল অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ভবন ভাঙচুরের ব্যাপারে তাদেরকে লিখিত কোনো নোটিশ দেয়নি। বরং মাত্র তিন কার্যদিবস আগে মৌখিকভাবে তাদেরকে ভবন ছেড়ে দেয়ার জন্য বলা হয়। এ ব্যাপারে তারা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ জাতীয় সংগঠন জেলা পরিষদ চত্বরে রাখতে দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আকস্মিকভাবে সেখানে বুলডোজার চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য ভবনের তিনফুট ভেঙে ফেললেও বাকি বৃহৎ অংশ এখনও ব্যবহার উপযোগী। কিন্তু সেটাও ব্যবহার করতে দিচ্ছে না জেলা পরিষদ।

উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে যশোর সাহিত্য পরিষদ গঠিত হওয়ার পর ওই বছরই তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জেলা পরিষদ অভ্যন্তরে দ্বিতল ভবন নির্মাণ করে সেটা সাহিত্য পরিষদকে বরাদ্দ দেন। সেই থেকে ওই ভবনে সাহিত্য পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যশোরের সাহিত্য আন্দোলন ও নব্বইয়ের গণঅভ্যূত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাহিত্য পরিষদের রয়েছে অগ্রণী ভূমিকা।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, কবি আজীজুল হক, হাসান আজীজুল হক, ড. মো. মনিরুজ্জামান, হেলাল হাফিজ, রফিক আজাদ, আহসান হাবীব, নির্মলেন্দু গুণের মতো দু’বাংলার খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকরা একাধিকবার যোগ দিয়েছেন যশোর সাহিত্য পরিষদের বিভিন্ন আয়োজনে।

jagonews24

কবি রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, দারা মাহমুদ, ফখরে আলমসহ পরিচিত কবি-সাহিত্যিকদের শিল্পচর্চার হাতেখড়িও এ সংগঠনে।

যশোর সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি ছড়াকার রিমন খান বলেন, শিল্প-সাহিত্য চর্চার এই পীঠস্থানকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব জেলা পরিষদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। কিন্তু সাহিত্য ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ঐতিহ্যবাহী এমন সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতার পরিবর্তে উচ্ছেদ করারটা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়।

তিনি বলেন, আমরা সড়ক সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে নই। বরং উন্নয়নের প্রয়োজনে তিন ফুট কেন আরও বেশি জায়গা ভেঙে দিতেও আপত্তি নেই। কিন্তু আসলে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে উচ্ছেদ করতেই উন্নয়নের বিষয়টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।

সাহিত্য পরিষদের আরেক কর্মী শামীমা ইয়াসমিন শম্পা অভিযোগ করেন, রাস্তার জন্য তিনফুট নয় বরং সাহিত্য পরিষদকে নিশ্চিহ্ন করার দুরভিসন্ধি থেকেই এদিন উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এর প্রমাণ আকস্মিক ভাঙচুর চালানোর সময় পরিষদ কার্যালয়ে থাকা আমাদের সাহিত্যকর্ম, পাণ্ডুলিপিসহ অন্যান্য মূল্যবান বইপত্রও সরিয়ে নেয়ার সময় দেয়া হয়নি। শ্রমিক দিয়ে সেগুলো এনে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল বলেন, ভবনটি জেলা পরিষদের। সাহিত্য পরিষদ সেটা ব্যবহার করত মাত্র। এখন ওই ভবনের যে অবস্থা সেখানে কোনো লোক ওঠানো সম্ভব না। এমনকি সংস্কার করেও সেটা ব্যবহারের পরিবেশ নেই। ফলে তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি, কেউ জমি দিলে জেলা পরিষদের তহবিল দিয়ে সেখানে সাহিত্য পরিষদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেব।

মিলন রহমান/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।