সাফিয়া-মারিয়াদের ‘একমাত্র সম্বল’ ইজিবাইকটি উদ্ধার করল পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৫:৪৮ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

সাতক্ষীরার দরিদ্র পরিবারের যমজ শিশু সাফিয়া-মারিয়ার মুখে হাসি ফোটাতে তাদের বাবাকে একটি ইজিবাইক উপহার দিয়েছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তাদের বাবা আনিসুর রহমানকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে সাতক্ষীরা শহর থেকে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে একদল দুর্বৃত্ত। ঘটনার এক মাস পর ছিনতাই হওয়া সেই ইজিবাইকটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আরও একটি ইজিবাইক। গ্রেফতার করা হয়েছে চক্রটির ৯ সদস্যকে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সদর থানায় সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানান সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর্জা সালাউদ্দীন।

তিনি জানান, গত ১২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা শহরের জেলগেট এলাকা ও বিনেরপোতা এলাকা থেকে তিনটি ইজিবাইক ছিনতাই করে চক্রটি। ভাড়া নেয়ার কথা বলে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ ও চেতনানাশক পানীয় খাইয়ে চালকদের অজ্ঞান করে তারা।

পরে ছিনতাইকারীদের একটি অংশ মাইক্রোবাসে চালকদের জনমানবহীন এলাকায় নিয়ে ফেলে যায়। বাকিরা পালিয়ে যায় ইজিবাইক নিয়ে।

মীর্জা সালাউদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় সদর থানায় দুটি মামলা হয়। তদন্তে জানা যায়, ছিনতাই চক্রের সদস্যরা মাদারীপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। সাতক্ষীরা সদর থানার একটি টিম দুই জেলায় চারদিন অভিযান চালিয়ে বুধবার ৯ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় দুটি ইজিবাইক। অন্য ইজিবাইকটি কয়েক দিন আগে গোপালগঞ্জ সদর থানা থেকে উদ্ধার করা হয়।

jagonews24

সাফিয়া-মারিয়ার বাবা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, ‘সিলেটের স্যাররা আমাকে ইজিবাইকটি কিনে দিয়েছিলেন। ছিনতাইকারীরা স্প্রে দিয়ে আমাকে অজ্ঞান করে ইজিবাইকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। তারা ইজিবাইকটির রঙ পরিবর্তন করেছে। বাকি সব ঠিক আছে। যশোর জেলার মনিরামপুর থানার রাজারহাট এলাকা থেকে আমার গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে। আমি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।’

এদিকে, ইজিবাইকটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল পরিবারটি। মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে একটি মাত্র কুঁড়েঘর তাদের। অভাবে দুধের বদলে ময়দা গোলা পানি খাওয়ানো হতো জমজ শিশু সাফিয়া-মারিয়াকে। এরপর তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে ভর্তি করা হয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে।

ঘটনাটি নিয়ে জাগো নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরীসহ হৃদয়বান মানুষরা পরিবারটির পাশে দাঁড়ান। হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শিশু দুটির জন্য দুধের ব্যবস্থা করেন সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. অসীম কুমার সরকার।

এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সাফিয়া-মারিয়ার বাবার ইজিবাইকটি উদ্ধার করতে গিয়ে আরও একটি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সেটি থানা হেফাজতে। ছিনতাইকারী চক্রের ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জড়িত বাকিদের গ্রেফতারেও অভিযান চলছে।’

আকরামুল ইসলাম/এসএস/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]