সিদ্ধিরগঞ্জে আ.লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় আরও এক মামলা
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থেকে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ২৩ জনকে আসামি করে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় সংঘর্ষে আহত হেলালের মা বিলকিস বেগম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এ মামলা করেন। মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির ভাই, ভাগিনা ও স্বজনসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলায় বিলকিস বেগম উল্লেখ করেন, তার ছেলে হেলাল ও তার কয়েকজন বন্ধু আদমজী ইপিজেডে মারুহিশা প্যাসিফিক ফ্যাক্টরিতে ব্যবসা করে আসছিলেন। উক্ত ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিবাদীরা গত ২৮ জানুয়ারি দুপুরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ছেলে ও ছেলের বন্ধুদের ওপর হামলা করে। এতে তার ছেলেসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়। হামলার সময় নগদ ৫২ হাজার টাকা ও ছেলের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় বলেও মামলায় অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ২৯ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির সহযোগী ও কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত আক্তার ওরফে পানি আক্তার বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
সংঘর্ষের ঘটনার পর নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মণ্ডল জানিয়েছিলেন, আমার সমর্থকদের কুপিয়ে জখম করেছে বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমানের সমর্থকরা। আহত অবস্থায় তারা চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার কর্মী-সমর্থকরা মার খাওয়া সত্ত্বেও এবং ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ আমার কর্মী সমর্থকদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালাচ্ছে। বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, তার আত্মীয়-স্বজন ও সহযোগীরা আদমজী ইপিজেডের ২৬ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসা করে আসছে। এতে করে বঞ্চিত আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সরকার দলীয় সমর্থক ও নেতাকর্মীরা তার ওপর দিনে দিনে ফুঁসে উঠছে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, আদমজী ইপিজেডের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রথমে গত বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় আক্তার হোসেন এবং গত শনিবার রাতে বিলকিস বেগম বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার আদমজী ইপিজেডে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দেখে এলাকার জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এস কে শাওন/এআরএ/এএসএম