চরেই চলে ঘোড়ার গাড়ি

জাহিদ খন্দকার জাহিদ খন্দকার গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০২:১৬ পিএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১

উত্তরের জনপদ গাইবান্ধা জেলা। এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট, কাটাখালি করতোয়াসহ বেশ কয়েকটি নদী। নদীবেষ্টিত এই জনপদে রয়েছে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। বর্ষায় নৌকা ব্যবহার হলেও গ্রীষ্মে চরাঞ্চলের বালুতে ঢেকে যায় সড়ক। তাই বালুচরের মানুষদের পরিবহন মানেই অপিহার্য হয়ে দাঁড়ায় ঘোড়ার গাড়ি। এক সময় জেলার প্রায় সব অঞ্চলেই দেখা মিললেও এখন শুধু চরেই চলছে ঘোড়ার গাড়ি।

সচেতন মহল বলছে, আগে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন ছিল চোখে পড়ার মতো। সময়ের ব্যবধানে এখন আর শহরে ঘোড়ার গাড়ির দেখা মেলে না। এখন ঘোড়ার গাড়ির দেখা মেলে চরে।

jagonews24

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন চরে মালামাল পরিবহনে ব্যবহার হচ্ছে ঘোড়ার গাড়ি। এই গাড়ি ব্যবহারের ফলে যেমন দ্রুত সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া সহজ, তেমনি কমছে পরিবহন খরচ।

ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত ফুলছড়ি উপজেলার টেংরাকান্দি চরের জাহিদুল ইসলাম বলেন, একটি ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে প্রতিদিন এক হাজার টাকা আয় হয়। এভাবেই চলে তার সংসার। প্রতিদিন নদীর ঘাট থেকে মালামাল আনা নেয়া করে গত পাঁচ বছরে সংসরের অনেক উন্নতি হয়েছে। তিনি আগে দিনমজুর হিসেবে প্রতিদিন তিনশ থেকে সর্বচ্চ পাঁচশ টাকা আয় করতেন। আর এখন প্রতিদিন এক হাজার থেকে অনেক সময় দেড় হাজার টাকাও আয় করেন।

jagonews24

টেংরাকান্দি চরের ঘোড়ার গাড়িচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, চরে যোগাযোগের কোনো সড়ক নেই। তাই চরের আকাবাঁকা-উঁচুনিচু রাস্তায় ঘোড়ার গাড়িতে মালামাল পরিবহন করতে হয়।

তিস্তা নদীবেষ্টিত সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের মাহবুবুর রহমন কৃষি শ্রমিকের পেশা পরিবতর্ন করে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটি ঘোড়া কিনে নেন। পরে সেই ঘোড়ার গাড়ি দিয়েই চলছে সংসার।

jagonews24

খাটিয়ামারি ইউনিয়নের ব্যবস্যায়ী মামুন মিয়া বলেন, বন্যার সময় নৌকায় মালামাল পরিহন করা হত। কিন্তু এখন নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে এক চর থেকে আরেক চরের কৃষিপণ্য বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহনে একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি।

সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী বলেন, হারাতে বসেছিল এই ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার। ইঞ্জিলচালিত পরিবহনের ভিড়ে ঘোড়ার গাড়ি আর শহরে দেখা যায় না। কিন্তু যমুনা নদীবেষ্টিত বিভিন্ন চরে গত ১০ বছর থেকে বেড়েছে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন। এখন চরে গেলেই দেখা মেলে এই ঘোড়ার গাড়ির।

jagonews24

গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের প্রধান উপজেষ্টা প্রবীণ লেখক ও সাংবাদিক গোবিন্দ লাল দাস বলেন, আমরা ছোটবেলায় গরুর গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়িতে বিভিন্ন স্থানে যেতাম। আগে গাইবান্ধা শহর অনেক ছোট ছিল। এই শহরে স্টেশন রোডটিই ছিল প্রধান সড়ক। এই সড়কেই চলত ঘোড়ার গাড়ি। সেসময় গ্রামাঞ্চলে ঘোড়ার গাড়িতে চলাচল ও বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রচলন ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সিএনজি আটোরিকশা ও ইঞ্জিনচালিত গাড়ির কারণে এখন আর ঘোড়ার গাড়ির দেখা মেলে না। এখন ঘোড়ার গাড়ি দেখতে শহরের মানুষ নদীর চরে যায়।

jagonews24

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী গাইবান্ধার সাত উপজেলার ৮২ ইউনিয়নে দেড় শতাধিক চর রয়েছে। তবে এসব চরে ঘোড়ার গাড়ির সংখ্যা জানা যায়নি।

এফএ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]