দুমকি ও মির্জাগঞ্জে এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় ১১ জনের মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৭:৪২ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২১
বাড়িতেই মারা যাচ্ছেন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা

পটুয়াখালীতে ক্রমশই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে ডায়রিয়া পরিস্থিতি। প্রতিদিনই জেলায় শত শত মানুষ যেমন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তেমনি সঠিক চিকিৎসার অভাবে মারাও যাচ্ছেন অনেকে। তবে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কাছে আক্রান্তের খবর থাকলেও মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই তাদের কাছে।

গত এক সপ্তাহে জেলার মির্জাগঞ্জে অন্তত আটজন ব্যক্তি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে স্থানীয় সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এদের কেউই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন না।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন- মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠাঁলতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি সাহারা সানফুল (১৫), উত্তর মাধবখালী গ্রামের মন্নাফ হাওলাদার (৫০), মাধবখালী গ্রামের মো. নুর মোহম্মদ সিকদার (৮০) ও উত্তর মাধবখালী গ্রামের দেনছে আলী সিকদারের স্ত্রী কহিনুর বেগম (৫৫), মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের আলীমদ্দিন সিকদার (৭৫), একই গ্রামের আনোয়ারা বেগম (৭০), ফরিদা বেগম (৫০), মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের তারাবুনিয়া গ্রামের মৃত ইকরাম সিকদারের ছেলে আলেক সিকদার (৫০)।

এদের মধ্যে সোমবার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের মাধবখালী গ্রামে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান মন্নাফ হাওলাদার ও ফরিদা বেগম। রোববার (১৮ এপ্রিল) একই ইউনিয়নের সমাদ্দারকাঠী গ্রামে এসএসসি পরীক্ষার্থী সাহারা সানফুল, আনোয়ারা বেগম ও আলীমদ্দিন সিকদার এবং মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের তারাবুনিয়া গ্রামে আলেক সিকদার মারা যান। শনিবার (১৭ এপ্রিল) মাধবখালী গ্রামে নুর মোহাম্মদ সিকদার এবং ১২ এপ্রিল রাতে উত্তর মাধবখালী গ্রামের কহিনুর বেগম ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

গত এক সপ্তাহে জেলার দুমকি উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিন জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এরা হলেন- পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড এর রফিক মুন্সি (৪৫), জলিশা গ্রামের আব্দুল হক মুন্সি (৭০) এবং আকিব খান (১ বছর)।

এর আগে, গত ৯ এপ্রিল পটুয়াখালী শহরের কলেজ রোডস্থ তালতলা এলাকার মৃত রশিদ সরদারের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৬০) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

তার পারিবারের সদস্যরা জানান, ৭ এপ্রিল রাতে পেটে বুদ বুদ শব্দ হয়ে পাতলা পায়খানা এবং বমি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার স্থানীয় এক চিকিৎসককে ডেকে স্যালাইন পুশ করা হয়। সে সময় অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকে আবারও পাতলা পায়খানা এবং বমি শুরু হয়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় মমতাজ বেগম মারা যান।

তবে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কাছে মৃত্যুর তথ্য না থাকলেও তাদের দৈনিক প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সদর উপজেলায় ১০ জন, বাউফলে ৪০ জন, কলাপাড়ায় ১২ জন, দশমিনায় ২৫ জন, গলাচিপায় ৪০ জন, মির্জাগঞ্জে ৯৩ জন, দুমকিতে ১৭ জন এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭৬ জন রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। আর গত এক সপ্তাহে জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৫৭৯ জন।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম সিপন বলেন, ‘এ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। কেউ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চলে আশার অনুরোধ করছি। ডায়রিয়ার রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইন এবং ওষুধ মজুত রয়েছে।’

আব্দুস সালাম আরিফ/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।