৩০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল আমলের মসজিদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নে অবস্থিত উলচাপাড়া গ্রাম। এ গ্রামে রয়েছে প্রাচীন একটি মসজিদ। লাল রঙের এ মসজিদকে অনেকে চেনেন উলচাপাড়া শাহী মসজিদ হিসেবে। আবার অনেকে চেনেন মোঘল আমলের মসজিদ হিসেবে।
এ মসজিদ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের কেউই সঠিকভাবে জানেন না। স্থানীয় মুরুব্বিরা এ মসজিদের ইতিহাস শুনেছেন তাদের পূর্বপুরুষ থেকে। কিন্তু সে ইতিহাসও কিছুটা অনুমান নির্ভর।
মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৫২ ফুট ও প্রস্থ ২২ ফুট। এর দেয়াল প্রায় চার ফুট পুরু। এর মাঝে একটি বড় গম্বুজ ও দুইপাশে দুইটি মধ্যম আকারের গম্বুজ রয়েছে। প্রধান গম্বুজের কেন্দ্র থেকে মসজিদের ভেতরের দেয়ালের নিচ পর্যন্ত রয়েছে কারুকাজ।

মসজিদটির কাছে যেতেই দেখা যায়, সাইনবোর্ডে লেখা, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে রয়েছে মসজিদটি।
মসজিদের পূর্ব পাশেই রয়েছে লম্বা একটি টিনের ঘর। এ ঘরে বসবাস করেন মসজিদের ইমাম। ইমামের নাম হাফেজ মাওলানা ওবায়দুল্লাহ।
হাফেজ মাওলানা ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘মসজিদে ইমামতি করছি ১৭ বছর ধরে। মসজিদের ইতিহাস কেউই তেমন জানে না। তবে মসজিদের মূল দরজার ওপরে একটি শ্বেত পাথরে ফারসি অক্ষরে লেখা আছে, মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা শাহ সৈয়দ মাহমুদ মুরাদ। এর প্রতিষ্ঠাকাল ১১৪৩ হিজরি। এ থেকে বোঝা যায়, মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে প্রায় ৩০০ বছর আগে’।
তিনি আরও বলেন, ‘মসজিদ নির্মাণের প্রায় ২০০ বছর পর বারান্দাটি তৈরি করা হয়। মসজিদের রঙ ও কাঠামো প্রতিষ্ঠাকাল থেকে যেমন ছিল তেমনই রয়েছে। মসজিদের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে মসজিদের রঙেরই অনেক পুরান একটি কবর রয়েছে।

স্থানীয়রা ধারণা করেন, কবরটি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা শাহ সৈয়দ মাহমুদ মুরাদের। মসজিদের ভেতরে ৪০ জন ও বাইরে শতাধিক মানুষ নামাজ পড়তে পারেন বলে জানা গেছে।
এ মসজিদের মুতাওয়াল্লী ফরিদ উদ্দিন। তিনি পেশায় ছিলেন একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
তিনি বলেন, ‘এ মসজিদের লিখিত কোনো ইতিহাস নাই। পূর্বপুরুষ থেকে যা শুনেছি, তা বলতে পারব শুধু। তারা জানিয়েছিলেন, ইয়েমেনের মাহমুদ মুরাদ নামের এক ধর্ম প্রচারকারী এখানে এসে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মসজিদটি গ্রামের মানুষ পরিচালনা করছেন অনেকদিন ধরে। এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় চালাচ্ছেন’।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে নিয়ে যাওয়ায় মসজিদটি শুধু পরিচালনা করছি আমরা। কোনো নতুন সংযোজন বা বিয়োজন করতে পারছি না। কয়েকবছর আগে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের লোকজন শুধু রঙ করেছিল এখানে। বিগত পাঁচ-ছয় বছর যাবত প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কেউ এখানে আসেননি। বরং আমরা আটকে গেছি তাদের কারণে’।
ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘মসজিদে সব লোকের জায়গা হয় না। তাই বাইরে অস্থায়ী পর্দা দিয়ে নামাজের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু রমজান মাসে যদি বৃষ্টি হয় তখন আমাদের সমস্যা হবে'।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসএমএম/এমএস