গাংনীতে ধানকাটা নিয়ে চিন্তিত চাষিরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মেহেরপুর
প্রকাশিত: ০৬:০২ পিএম, ০৩ মে ২০২১

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন মাঠে কৃষকদের বোরো ধান সিংহভাগই পেকে গেছে। কোথাও কোথাও কাটা শুরু হয়েছে। ধান কেটে ঘরে তোলার আগ্রহ থাকলেও শ্রমিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

অপরদিকে কৃষি কাজকে গতিশীল করার জন্য কৃষকদেরকে ভর্তুকীতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার দেয়া হলেও সেগুলোর দেখা নেই। কালবৈশাখীর সামান্য ছোবলে কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে না পারলে যেমন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তেমনি দেখা দিতে পারে খাদ্য সংকট।

jagonews24

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলায় ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের কারণে বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু চাষিদের মনে নানা শঙ্কা বিরাজ করছে। কালবৈশাখীর তাণ্ডবে মাঠের ধান নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

গাংনীর ভাটপাড়া গ্রামের ধানচাষি আকতার জানান, তিনি এবার ধান চাষ করেছেন। আশানুরূপ ফল পাবেন বলেও আশাবাদী। কিন্তু কালবৈশাখীর তাণ্ডব শুরু হলে বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।

jagonews24

তিনি জানান, বর্তমানে শ্রমিক সংকট। সরকার কৃষকদের কথা ভেবে কম্বাইন্ড হারভেস্ট মেশিন সরবরাহ করে। নামমাত্র মূল্যে সরবরাহকৃত এ মেশিন এলাকার চাষিদের চাহিদা পূরুণের পর অন্যস্থানে চাষিদের কাজ করবে। কিন্তু এলাকায় সেসব মেশিন চোখে পড়ছে না।

সহড়াবাড়িয়া এলাকার অনেক চাষি জানান, নিচু জমির ধান কাটার জন্য বেশি প্রয়োজন এ হারভেস্ট মেশিনের। উঁচু জমির ধান কেটে বিচালি তৈরি করার কারণে অনেকে ধান কাটতে চান না হারভেস্ট মেশিনে। আর এ অজুহাতে এলাকার মেশিন মালিকরা দূরে ধান কাটার জন্য চলে গেছেন। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলে এ মেশিন চলে গেছে। অথচ এ অঞ্চলের চাষিরা পড়েছেন বিপদে।

jagonews24

কৃষকরা জানান, অনেকেই আছেন যারা হারভেস্ট মেশিন ভর্তুকীতে নিয়ে অন্যের কাছে লিজ দিয়েছেন। আবার অনেকেই বিক্রি করেছেন। যারা কিনেছেন তারাই নিজের ইচ্ছামাফিক কাজ করছেন। কৃষি অফিস কোনো তদারকি করছে না। আবার যাদের নামে এ মেশিনন দেয়া হয়েছে তারা এটি পাবার যোগ্য কিনা সেটিও দেখা হয়নি।

এ ব্যাপারে গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার কেএম সাহাবুদ্দীন জানান, উপজেলায় ১৯টি হার্ভেস্ট মেশিন দেয়া হয়েছে। এগুলো গম কাটার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ অঞ্চলের চাষিরা গরু পালন করেন। তাই বিচালির জন্য কেউ হার্ভেস্ট মেশিনে ধান কাটতে চান না। এজন্যই অনেকে বাইরে মেশিন নিয়ে গেছেন।

আসিফ ইকবাল/এমআরএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]