বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ১২:১১ এএম, ১২ মে ২০২১

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। বাড়ি ফেরার তাড়া যাত্রীদের। শেষ মুহূর্তে ঈদযাত্রায় বাগড়া দিল বৃষ্টি। মঙ্গলবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে গুড়ি বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। বৃষ্টিকে মাথায় নিয়েই ঘরে ফিরছে তারা।

জানা গেছে, নৌরুটে নৌযান হিসেবে শুধুমাত্র ফেরি চলাচল করছে। যাত্রীদের চাপ বেশি থাকায় যানবাহনের চেয়ে যাত্রীদের অগ্রাধিকার দিয়ে পার করা হচ্ছে। আর ফেরির ডেকের বেশিরভাগ অংশই খোলা থাকায় বৃষ্টিতে ভিজতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিকেল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে। ফলে বিকেলের আকস্মিক বৃষ্টি ঈদযাত্রায় দুর্ভোগে ফেলেছে হাজার হাজার যাত্রীদের।

ঢাকা থেকে শিবচরে আসা বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে আলাপ করলে তারা জানান, ‌ফেরির বেশিরভাগ যাত্রীদের যানবাহন রাখার ডেকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। একটি ফেরিতে কয়েক হাজার যাত্রী। বিকেলে বৃষ্টি শুরু হলে ভিজতে হয়েছে তাদের। শেষ বিকেলের বৃষ্টি বিপাকে ফেলেছে ঘরমুখো যাত্রীদের।

রোহান নামের এক যাত্রী বলেন, ‘পদ্মায় ঢেউ রয়েছে বেশ। হালকা বাতাস আর বৃষ্টিতে পদ্মা কিছুটা উত্তাল হয়ে উঠেছে। বৃষ্টিতে পুরো পথ ভিজেই ঘাটে নেমেছি। ঘাটে নেমেও গন্তব্যের গাড়িতে উঠার আগ পর্যন্ত ভিজতে হয়েছে। ফেরিঘাটের আশপাশে কোনো যাত্রী ছাউনি নেই।’

বিআইডব্লিউটিসিসহ ঘাট সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের ঘরে ফেরার ঢল নামে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়। শিমুলিয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরি যাত্রী ও যানবাহনে পরিপূর্ণ। তবে সব ফেরি চালু থাকায় ফেরিতে যাত্রীদের গাদাগাদি কম। যাত্রী চাপ সামাল দিতে বাংলাবাজার ঘাট থেকে খালি ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে পাঠানো হচ্ছে। এদিকে বিকেলে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর ঘাট এলাকায় বিপাকে পড়ে যাত্রীরা। বৃষ্টিতে ভিজেই গন্তব্যের গাড়িতে উঠতে দেখা গেছে হাজার হাজার যাত্রীকে।

অন্যদিকে ঢাকা থেকে বিভিন্ন উপায়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বাংলাবাজার ঘাটে এসে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা পড়েন আরও ভোগান্তিতে। গণপরিবহন না থাকায় বাংলাবাজার ঘাট থেকে থ্রি-হুইলার, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসে তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে তাদের যাতায়াত করা হচ্ছে।

বরিশালগামী বরিউল হাসান জানান, আগে বাংলাবাজার ঘাট থেকে বরিশাল যেতে ভাড়া লাগত মাত্র ৫০০ টাকা। এখন মাইক্রোবাসে ভাড়া নেয় ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। এতো টাকা দিয়ে কীভাবে বাড়ি যাব?

বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ঈদে ঘরেফেরা দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের চাপ রয়েছে। আমাদের সব ফেরি চলাচল করছে। বাংলাবাজার ঘাটে তেমন চাপ নেই। তাই যাত্রী চাপ সামাল দিতে ফেরিগুলো বাংলাবাজার ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন নামিয়ে খালি ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। বৃষ্টিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে যাত্রীদের। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ভিজতে হয়েছে ঘরমুখো অনেক মানুষকে।

একেএম নাসিরুল হক/এআরএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]