পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ঈদ আনন্দে ভাটা, মেলেনি প্রণোদনা
করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর মানুষ যখন অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে যায়, ঠিক সেই সময় থেকেও মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করেছেন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। একদিনের জন্য হলেও তাদের কোনো বিরতি ছিল না। তবে এই মহামারিতে অনেক পেশার মানুষ সরকারি প্রণোদনা পেলেও তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। আর্থিক প্রণোদনা তো দূরের কথা, দুর্যোগের এই সময়ে তাদের কাজের কোনো স্বীকৃতিও দেয়নি কেউ।
পটুয়াখালী পৌরসভার তথ্যমতে, শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে পৌরসভার প্রায় তিনশত কর্মী রয়েছে। বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে তাদের কাজের পরিধি যেমন বাড়ে তেমনি তাদের দায়িত্বটাও বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ঝাপিয়ে পড়তে হয় তাদের।
গতবছর করোনার শুরুর দিকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেয়ার বিষয়ে আলোচনা উঠলেও তা আর পরে বাস্তবায়ন হয়নি। সে সময়ে কয়েক দফায় পৌরসভা এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ত্রাণ সহায়তা দেয়া হলেও এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এখন পর্যন্ত তাদের জন্য কোনো সহায়তা দেয়া হয়নি।
পটুয়াখালী শহরের টিএনটির সামনের কলোনিতে বেশিরভাগ পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বসবাস। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই ঈদের সময় তাদের পরিবারগুলোতে কোনো উৎসবের আমেজ নেই। ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা বেতনে কাজ করা পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভাগ্যে জোটেনা ঈদ বোনাস কিংবা সহায়তা।

ষাটোর্ধ্ব পরিচ্ছন্নতা কর্মী সোহরাব হোসেন জানান, গতবছর করোনার শুরুর দিকে পৌরসভাসহ বিভিন্ন সংস্থা তাদের ত্রাণ দিয়েছে। সেসময় কাজ করার জন্য মাস্ক এবং সাবান দিলেও এবারের তা দেয়া হয়নি।
কলোনিতে বসবাস করা পরিচ্ছন্নতা কর্মী রাবেয়া বেগম বলেন, ‘যে কয় টাহা বেতন পাই, হ্যা দিয়া গুরাগারা লইয়া চলাই দায়। তিন ওকতো ঠিকমতো খাওন জোগাড় করতে পারি না। আমাগো কি আর ঈদ আছে? ঈদ হইছে বড় লোকের।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘পরিচ্ছনতা কর্মীদের প্রণোদনার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে আমরা লিখিতভাবে অবহিত করেছি। পরিচ্ছন্ন শহরের যে কৃতিত্ব তা পুরোটাই তাদের। কীভাবে তাদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আবাসন নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি।’
এসআর/এমকেএইচ