পর্নো দেখে বলাৎকারের চেষ্টা, শিক্ষককে বলে দিতে চাওয়ায় হত্যা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:৩৬ পিএম, ২১ মে ২০২১
প্রতীকী ছবি

নওগাঁর মহাদেবপুরে কুঞ্জবন দারুল উলুম কওমি মাদরাসার ছাত্র রাব্বী (৯) হত্যাকাণ্ডের রহস্য পাঁচমাস পর উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনার মূল হোতা একই মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র রনিকে (১৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে রাব্বীকে হত্যা করা হয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে রনি।

শুক্রবার (২১ মে) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজম উদ্দীন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

রাব্বী উপজেলার নাটশাল গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। গ্রেফতার রনি একই উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন নীচপাড়া গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে।

জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টায় কুঞ্জবন দারুল উলুম কওমী মাদরাসার ১৫০ গজ পূর্বে জনৈক শমসের আলীর জমি থেকে রাব্বীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় মুখমণ্ডল থ্যাঁতলানো ও পায়ের আঙুল কাটা ছিল।

পরে নিহতের বাবা রমজান আলীর বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ বিভিন্নভাবে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। অবশেষে হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ৬ জানুয়ারি রাতে রাব্বী (ভিকটিম), রনি এবং আরেক ছাত্র মাদরাসার অদূরে একটি দেয়ালে বসে মোবাইলে পর্নো ভিডিও দেখে। এরপর রনি বলাৎকারের জন্য রাব্বীকে প্রস্তাব দিয়ে জোর করে মাদাসার পাশে ফসলের মাঠে নিয়ে যায়। বিষয়টি মাদরাসার প্রধান শিক্ষককে বলে দিতে চাইলে লাঠি দিয়ে রাব্বীর মাথায় আঘাত করলে সে মারা যায়। ঘটনার পর থেকেই সে মাদরাসাতেই অবস্থান করছিল এবং তার আচরণ ছিল স্বাভাবিক।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দীন বলেন, মামলাটি ছিল একেবারেই ক্লু-লেস। এরপরও হত্যার রহস্য উদঘাটনে নিরবচ্ছিন্ন তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে প্রযুক্তির সহায়তাও নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ খুনিকে শনাক্ত এবং গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

আব্বাস আলী/এএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]