৯৯৯-এ ফোন, ৩ ঘণ্টার মধ্যে অপহৃত ছাত্রলীগ নেতা উদ্ধার
নওগাঁর মহাদেবপুরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে জামিন ইসলাম (১৭) নামের অপহৃত এক ছাত্রলীগ নেতাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিরোধের জেরে তাকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২১ মে) রাত ৯টায় উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের ভীমপুর গ্রামে পূর্বপাড়া এ ঘটনা ঘটে।
অপহৃত জামিন ইসলামের বাড়ি ভীমপুর গ্রামে পূর্বপাড়ায়। তিনি এলাকার ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি।
পরিবার জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ভীমপুর গ্রামের তিনমাথায় বন্ধুদের সঙ্গে থেকে আড্ডা দিচ্ছিলেন জামিন ইসলাম। এসময় একই গ্রামের যোবায়েদ, খাইরুল, আইয়ুব হোসেন দিপু, মাজেদ, তোফাজ্জল হোসেন তফা ও মুস্তাফির রহমান শিমুলসহ কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে এসে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান।
পরে এলাকাবাসী বিভিন্নভাবে স্থানে তার খোঁজ নেয়। তাকে না পেয়ে অবশেষে তার স্বজনরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে জানায়।
মহাদেবপুর থানা পুলিশ রাত সাড়ে ৯ টায় গ্রামের একটি মাদরাসার পেছনের জঙ্গল থেকে আহত অবস্থায় জামিনকে উদ্ধার করে। তাকে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
জামিন ইসলামের চাচা নজরুল ইসলাম নূর বলেন, জামিনের খোঁজ নিয়ে না পেয়ে বাধ্য হয়ে ৯৯৯-এ ফোন দেয়া হয়। পরে প্রায় ৩ ঘণ্টা পর জঙ্গল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এসময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
তিনি আরও বলেন, অপহরণের পর জামিনকে বলিহার এলাকায় নিয়ে বেদম মারধর করা হয় ও মুখে বিষাক্ত দ্রব্যও ঢেলে দেয়া হয়। এরপর তাকেও জঙ্গলের ভেতর ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর অভিযান চালানো হয়। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করা হলে একেক সময় একেক অবস্থান দেখাচ্ছিল। অবশেষে গ্রামের একটি মাদরাসার পাশে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সেখানে একটি জঙ্গল থেকে জামিন ইসলামকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার।
আব্বাস আলী/এসএমএম/এমএস