২০০ বছরের পুরোনো ভাঙ্গার ‘গায়েবি মসজিদ’
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামে অবস্থিত রায়নগর আউলিয়া গায়েবি মসজিদ। প্রায় দুইশ বছর আগে নির্মিত এ মসজিদটি এই অঞ্চলের ঐতিহ্য বহন করে আছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক মানুষ ঐতিহাসিক পুরোনো এ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি দেখতে আসেন। ঘুরে দেখে মুগ্ধ হন, অনেকে নামাজও আদায় করেন।
ভাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পূর্বে এবং ভাঙ্গা-মাওয়া সড়কের মালিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে রায়নগর গ্রামে পুরোনো ঐতিহাসিক এ মসজিদটি অবস্থিত।

এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির মধ্যখানে অর্ধ গোলাকার গম্বুজ। মসজিদটির সামনের দিকে রয়েছে তিনটি প্রবেশদ্বার। এরমধ্যে একটা বড় প্রবেশদ্বার, অন্য দুটি ছোট আকারের। পূর্বপাশের সম্মুখদ্বারের খিলানে প্রবেশদ্বারে কুলঙ্গি শোভা পাচ্ছে।
কার্নিশের সারি প্লাস্টারে দেয়ালের গায়ে সুসজ্জিত অলঙ্করণ করা হয়েছে। পাঁচ আয়তাকার প্যানেল রয়েছে, যার মাঝখানেরটি বর্গাকার এবং এর উভয় পাশে রয়েছে লতা-পাতার চিত্র।

মসজিদের চার কোণে রয়েছে চার মিনার। এ মিনারগুলো উঁচু ছাদের সঙ্গে সমানতালে মেশানো। প্রধান প্রবেশদ্বারের ওপরে একটি ০.৫২×০.৩৬ মিটারের কালো পাথরে আরবিতে লেখা, শিলালিপির বর্ণনানুযায়ী মসজিদটি ১২১৬ হিজরি/১৮০১ সালে নির্মিত হয়েছিল। এ দেখে বোঝা যায়, আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল মসজিদটি।
মসজিদটি তুলনামূলক আকারের দিক দিয়ে ছোট। শুরু থেকে সাধারণত ইট, বালু, চুন-সুরকি দ্বারা এটি নির্মিত। যদিও পরে একাধিকবার এর সংস্করণ করা হয়েছে। কয়েক বছর আগে বাইরে সিমেন্টের প্লাস্টার এবং ভেতরে টাইলসের কাজ করা হয়েছে।

ঐতিহাসিক এ মসজিদটির নির্মাণশৈলী অত্যন্ত চমৎকার। যা দেখে যে কোনো মানুষই আকৃষ্ট হবেন। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ত্রিপত্র, বহুপত্রবিশিষ্ট আকর্ষণীয় খিলান দেখে।
মসজিদটির বিস্তারিত সব ইতিহাস কেউ বলতে না পারলেও এলাকাবাসী ও মসজিদের খাদেমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২০০ বছর আগে গোলাম হোসেন নামের একজন মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে মসজিদটির নামকরণ নিয়ে কিছুটা মতভেদ রয়েছে।

কেউ বলেন রায়নগর মসজিদ আবার কেউ বলেন আউলিয়া মসজিদ। তবে স্থানীয়দের কাছে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামেই বেশি পরিচিত।
কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. লিটন হোসেন লিটু বলেন, বাপ-দাদার কাছ থেকে শুনে যতটুকু জেনেছি তাতে মসজিদটির বয়স প্রায় দুইশ বছরের বেশি হবে। আমাদের কাছে এটি ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিত।
তিনি বলেন, বর্তমানে মসজিদটিতে অনেক সমস্যা বিরাজমান। সংস্কারের অভাবে নষ্ট হতে চলছে। মাঝে মাঝে সামান্য কিছু বাজেট পাওয়া যায়, তা দিয়ে সমস্যা অনুযায়ী সংস্কার সম্ভব হয় না। পুরোনো ঐতিহাসিক এ মসজিদটির ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এসআর/এএসএম