পরস্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় খুন হন অটোবাইক চালক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ১৫ জুন ২০২১
প্রতীকী ছবি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গোসাইপাড়া গ্রামের অটোবাইক চালক সেলিম হত্যার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যের স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার জের ধরে গত বুধবার (৯ জুন) রাত ৯টার দিকে খুন হন সেলিম। আসামিরা ওইদিন দুপুরেই হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ জুন) দুপুরে পাবনা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এতথ্য দেন পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান।

নিহত সেলিম সাঁথিয়া উপজেলার গোসাইবাড়ি গ্রামের তোফাজ্জ্বল হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোবাইক চালক ছিলেন।

গ্রেফতাররা হলেন-সাঁথিয়া ছোন্দহ এলাকার মো. সাঈদ মোল্লার ছেলে রাসেল হোসেন (২২), সাঁথিয়া বহলবাড়িয়া পূর্বপাড়ার সোলেমানের ছেলে রানা শেখ (২১) ও একই এলাকার শীলা খাতুন (২১) এবং ওয়াজেদ সরদারের ছেলে হোসেন আলী (১৮)।

শনিবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকার ধামরাই থানার নওগাঁ বাজারের জনৈক বক্কারের ইটভাটা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আসামিদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, বহলবাড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ শীলা খাতুনকে অটোবাইক চালক সেলিম মাঝে মধ্যেই উত্ত্যক্ত করতেন এবং কুপ্রস্তাব দিতেন। শীলা এক পর্যায়ে বিষয়টি তার স্বামী আল-আমিনকে জানান। এরপর তার স্বামী অন্য সহযোগীদের নিয়ে সেলিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

সেলিমের অটোবাইক আছে তাই তাকে সহজেই পরিকল্পিত জায়গায় নেয়া যাবে বলে তারা পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক আসামিরা ৯ জুন বিকেল ৫টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর নামক স্থানে একত্রিত হন। সেলিমকে রিজার্ভ ভাড়ার কথা বলে মাহমুদপুর বাজারে আসতে বলা হয়।

সেলিম মাহামুদপুর বাজারে আসার পর আসামি রাসেল, রানা, আল আমিন, সাগর এবং হোসেন ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাশে সাঁথিয়া উপজেলার বহলবাড়িয়ায় যাওয়ার কথা বলেন। বহলবাড়িয়ার কাছে কালুকাটায় পৌঁছার পর তারা গাঁজা খাওয়ার কথা বলে সবাই পাশে একটি পাটক্ষেতে যান। এসময় ইজিবাইকটি মহাসড়কের পাশে রাখা ছিল। রাত ৯টার দিকে অটোবাইক চালক সেলিম গভীর নেশাগ্রস্ত হয়ে যান। এসময় আসামিরা চাকু দিয়ে কুপিয়ে এবং হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে নৃশংসভাবে সেলিমকে খুন করেন। তারা সেলিমের একটি অণ্ডকোষও কেটে ফেলেন।

সেলিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আসামিরা ইজিবাইকটি নিজেরা চালিয়ে নিয়ে রাতেই সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা বাজারে যান। সেখানে রাত সাড়ে ৯টার দিকে দিকে ভাংড়ি মাল কেনার ব্যবসায়ী জনৈক দেলোয়ারের কাছে ৩১ হাজার ৫শ টাকায় অটোবাইক বিক্রি করেন। সে টাকা তারা ভাগাভাগি করে নেন। ১০ জুন সাঁথিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নম্বর ৭) দায়ের হয়।

গ্রেফতার আসামিরা মূলহোতা আল-আমিনের বাড়িতে গত ৯ জুন দুপুরে সেলিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। খুনের পর সেলিমের ইজিবাইকটি বিক্রি করে টাকা ভাগ বটোয়ারা করে নেবেন বলেও তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখেন।

সোমবার (১৪ জুন) আদালতের মাধ্যমে আসামিদের পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে রাসেল হোসেন (২২), রানা শেখ (২১) এবং দেলোয়ার হোসেন (৩৮) আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ সুপার জানান, এ মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১০ জুন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের কালুকাটা নামক স্থানে মাঠের মধ্যে অটোবাইক চালক সেলিম হোসেনের (২৫) ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে স্বাধীনতার পরপরই ‘কালু’ নামের একজনকে গলাকেটে হত্যা করেছিল সন্ত্রাসীরা। এরপর স্থানীয়রা জায়গাটির নামকরণ করেন ‘কালুকাটা।’ অর্ধশতাব্দী পর ৯ জুন রাতে অটোবাইক চালক সেলিমকে গলাকেটে হত্যা করা হয়।

আমিন ইসলাম/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]