ভাঙা কুঁড়ে ঘরেই কাটে ফুরকুনি বেগমের দিন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ১৩ জুলাই ২০২১

সত্তোরর্ধ্ব ফুরকুনি বেগম। ২০ বছর আগে ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বামী। স্বামীর নেই কোনো সম্পত্তি। ভাইয়ের দেয়া মাটি দিয়ে তৈরি একটি ভাঙা কুঁড়ে ঘরে থাকেন তিনি। বৃষ্টি আসলে পানিতে ভেসে যায় মাটি। তাই একটি ভালো ঘরের আশায় কোনোরকম দিন পার করছেন এই বৃদ্ধা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে মহানন্দা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা দৌলতপুর নামে ছোট্ট একটি গ্রাম। সেই গ্রামে ১৯৫২ সালে মহান ভাষা আন্দোলনের বছরেই জন্মেছিলেন ফেলু শেখের মেয়ে ফুরকুনি বেগম। পুতুল খেলার বয়সেই তাকে একই গ্রামের রাশেদ আলীর সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। তাদের কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে শিশু কন্যা।

হঠাৎ এ সুখের ঘরে দুঃখ এসে হাজির। স্বামী মরণব্যধি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হন। কখনো চিকিৎসায়, আবার কখনো বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে কাটে তার জীবন। এক সময় ফুরকুনি ও তার কন্যাকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যান রাশেদ আলী। এভাবে দেখতে দেখতে অতিবাহিত হয়ে গেল প্রায় ২০টি বছর।
সংসার চালানোর আর কেউ রইল না। কখনো পরের বাড়িতে কাজ করে, কখনো আত্মীয়-স্বজন পাড়া- প্রতিবেশীদের কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে কোনোরকমে কেটে যাচ্ছিল তার দিন।

এক সময় মেয়ের বিয়ে দেন পার্শ্ববর্তী শিবগঞ্জ উপজেলায়। মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন। হঠাৎ মেয়েটির স্বামীও মারা যান। তিনি হয়ে পড়েন একা। সে সময় তিনি বাস করতেন তার ভাইয়ের বাড়িতে। যা হয় সংসারে তাই হল ভাইয়ের বউ ঠিক মতো দেখতে পারত না তাকে। তিনবেলা খাবার জুটতো না তার। এক সময় শারীরিকভাবে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রয়েছে তার প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট। তার যখন শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তখন সে চারদিকে অন্ধকার দেখে। বিছানা ছেড়ে উঠতে পারে না।

প্রাকৃতিক কাজকর্ম তাকে বিছানায় সারতে হয়। এসব দেখে তার ভাই ও ভাবি তাকে পাশে একটি কুঁড়েঘর করে থাকতে দেন। এরপর তিনি আরও একা হয়ে পড়েন। কখনো খেয়ে না খেয়ে দিন যায় তার। এরপর মিলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স্কভাতা। মাঝে মাঝে খাবার প্রয়োজনে তাকে বাড়ি বাড়ি যেতে হয়। এলাকার সবাই তার বিষয়ে অবগত। অথচ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধির শরণাপন্ন হলেও তার ভাগ্যে জোটেনি একটি সরকারি বাড়ি।

jagonews24

ফুরকুনি বেগম বলেন, ‘অনেক কষ্টে দিন কাটে আমার। একটা ঘর যদি পাইতাম ভালো মতো একটু থাকতে পারতাম। প্রধানমন্ত্রী অসহায়দের ঘর উপহার দেন। আমারে যদি একটা ঘর দিতেন তাহলে খুশি হইতাম।’

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘আমি জানতে পেয়ে বৃদ্ধার কাছ থেকে তার আইডি কার্ড নিয়ে এসেছি। আমরা ইউনিয়ন পরিষদে বসে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ির পরবর্তী তালিকাতে যাতে তার নাম থাকে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

ইউপি চেয়ারম্যান শুকুরউদ্দিন বলেন, ‘তার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য গোলাম মর্তুজা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বৃদ্ধা ফুরকুনির বাড়ি না পাওয়ার বিষয়টি আমাদের গোচরীভূত আছে। বাড়ি বরাদ্দের তালিকায় অবশ্যই তার নাম দেয়া হবে।’

সোহান মাহমুদ/এসজে/এমকেএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।