মশায় অতিষ্ঠ কালীগঞ্জ পৌরবাসী

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০৪:৪৯ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২১

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পৌরসভার বাসিন্দারা। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই মশার উৎপাত বেড়ে যায়। তবে মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় ক্রমেই মশার বংশবিস্তার বাড়ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভার বাজারসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডের গ্রামগুলো অত্যন্ত নোংরা আবর্জনায় ভরা। বাজারের ভেতরের উচ্ছিষ্ট, ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে। যেখনে-সেখানে ডাবের খোসা ও প্লাস্টিকের খালি বোতলের ছড়াছড়ি। পরিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই ময়লা পানি জমা হচ্ছে। খোদ কালীগঞ্জ পৌর ভবনের পেছনেই জমে আছে বৃষ্টির পানি। যাতে মশার প্রজনন বাড়ছে।

পৌরসভা থেকে নিয়ম করে প্রতিদিন বর্জ্য পরিচ্ছন্ন এবং পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলেও তাতে আন্তরিকতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে। পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সড়ক এবং বাজারের অভ্যন্তর থেকে ময়লা-আবর্জনা ভ্যানে করে নিয়ে গেলেও উচ্ছিষ্ট ও প্লাস্টিকের বোতলসহ পরিবেশ বিনষ্টকারী নানান দ্রব্য পড়ে থাকে, যা মশার বংশবিস্তারের জন্য সহায়ক।

jagonews24

সম্প্রতি কালীগঞ্জ পৌরসভায় উপজেলার পরিষদ থেকে একটি ফগার মেশিন দেয়া হয়। এছাড়া আগেই পৌরসভায় দু’টি ফগার মেশিন ছিল। তিনটি ফগার মেশিন দিয়ে প্রতিদিন পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়ম করে মশক নিধনে ধোঁয়া দিলেও কার্যত এর কোনো সুফল পাচ্ছে না পৌরবাসী।

পুরো পৌর এলাকার জন্য এ তিনটি মেশিন যথেষ্ট নয় বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। তিনটি মেশিন দিয়ে শুধুমাত্র প্রধান সড়কের আশপাশে দেয়া হচ্ছে ধোঁয়া। কিন্তু যারা একটু ভেতরের দিকে থাকছেন, তারা এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

৭নং ওয়ার্ডের ঘোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাদি জানান, সপ্তাহে গড়ে একদিন ফগার মেশিনের ব্যবহার হচ্ছে। যে কারণে মশার বংশবিস্তার রোধে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। যে কারণে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এ ব্যাপারে খুব দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

কালীগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আশরাফউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের পৌরসভায় নয়টি ওয়ার্ড। আর এ নয়টি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র তিনটি ফগার মেশিন। যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। পৌরসভায় মেশিন আসার পরে মাত্র দুইদিন আমার এলাকায় আমি ব্যবহার করতে পেরেছি। যে কারণে ওই ওয়ার্ডের মানুষের উপকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এস এম রবীন হোসেন বলেন, ‘পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর এখনো পর্যন্ত তিনটি ফগার মেশিনের সুবিধা পেয়েছে। যদিও এটি পর্যাপ্ত নয়, তবে ধীরে ধীরে এ অবস্থার উন্নতি হবে।’

jagonews24

মেয়র বলেন, ‘আমাদের বেশ কিছু টিম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আবর্জনা ও পয়ঃনিষ্কাশন কাজে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। নিয়ম করে প্রতিদিন ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়াও দেয়া হচ্ছে। এই মেশিনের সুফল পেতে হলে সাধারণ জনগণকে আরো সচেতন হতে হবে। নিজের আঙিনা অপরিচ্ছন্ন রেখে শুধু ফগার মেশিনের জন্য বসে থাকলেও চলবে না। পৌরসভার সেবার মান পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানো হবে।’

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শিবলী সাদিক বলেন, পৌরসভার জন্য তিনটি ফগার মেশিন কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। এগুলো দিয়ে পুরো পৌরসভার প্রয়োজন কোনোভাবেই পূরণ হবে না। খুব দ্রুত আরও কিছু মেশিনের ব্যবস্থা হবে।

তিনি বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি বিষয়ের ওপর খেয়াল রাখছে। যেহেতু আমাদের চাহিদার তুলনায় যোগান কম তাই যা আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও উচিত নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। যেহেতু এখন বর্ষাকাল, তাই আমাদের চারপাশের জমে থাকা পানি নিজেদের পরিষ্কার করতে হবে।’

আব্দুর রহমান আরমান/এএএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।