ফ্ল্যাট লিখে না দেয়ায় প্রবাসীর শিশুসন্তানের ওপর সৎমায়ের বর্বরতা
গাজীপুরে প্রবাসী স্বামীর সম্পত্তি লিখে নিতে আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছেন সৎমা। মুমূর্ষু অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা সৎমাকে অভিযুক্ত করে বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আট বছর আগে প্রবাস জীবন থেকে দেশে ফিরে সাবিনা ইয়াছমিনকে পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে করেন দুবাই প্রবাসী ছেলে মোস্তফা ফকির। বিয়ের আড়াই বছর পর তাদের কোল আলোকিত করে জন্ম নেয় এক কন্যাশিশু। এরই মাঝে দুবাইয়ে মোস্তফা ফকিরের সঙ্গে পরিচয় হয় আলিফা আক্তার রিপা নামের এক নারীর। তারা পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।
রিপা তাদের সেই সম্পর্ক বিয়েতে রূপ দিতে প্রথম স্ত্রী সাবিনার সঙ্গে বিচ্ছেদসহ নানা শর্ত জুড়ে দেন মোস্তফা ফকিরকে। এক পর্যায়ে বিবাহবিচ্ছেদে রাজি হয়ে যান মোস্তফা। শিশুটির চার মাস বয়সেই তার মা সাবিনার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে তার বাবার।
পরে প্রথম সংসারে জন্ম নেয়া শিশুকে দেখাশোনা ও মায়ের যত্নে লালন-পালন করার শর্তে রিপাকে বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করেন মোস্তফা। ছয় মাস আগে তার আড়াই বছরের শিশুকে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে রেখে ফের প্রবাসে (দুবাই) চলে যান।
প্রবাসকালীন জীবনে মোস্তফা তার অর্জিত আয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়াইদেরচালা এলাকায় ১৪ শতাংশ জমি কিনে পাঁচতলা ফ্ল্যাট নির্মাণ করেন।
এদিকে রিপা আক্তার জানতে পারেন তিনি আর মা হতে পারবেন না। এর পরই ভিন্ন ফন্দি আঁকেন তিনি। ওই বাড়িটি লিখে দিতে মোস্তফাকে নানা ধরনের চাপ দিতে থাকেন। তবে স্ত্রীর নামে বাড়ি লিখে দিতে রাজি ছিলেন না মোস্তফা।
পরে বাড়িটি লিখে নিতে মোস্তফার একমাত্র ভবিষ্যত উত্তরাধিকার ওই শিশুটির ওপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন তার দাদা আফাজ উদ্দিন। বুধবার (১১ আগস্ট) নাতনিকে দেখতে এসে তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে তিনি রিপা আক্তারের বিরুদ্ধ শ্রীপুর থানায় মামলা করেন।
অভিযুক্ত আলিফা আক্তার রিপা (৩০) মাগুরার সদর উপজেলার ধনপাড়া গ্রামের রজব আলী বিশ্বাসের মেয়ে। তিনিও একসময় দুবাই প্রবাসী ছিলেন।
মোস্তফা কামাল ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার বাঁশিয়া গ্রামের মো. আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ১৩ বছর ধরে দুবাই প্রবাসী।
আফাজ উদ্দিন বলেন, তার দ্বিতীয় পুত্রবধূ একটু উগ্র প্রকৃতির। বাড়িটি লিখে নিতে বিভিন্ন ফন্দি আঁটা শুরু করেছিলেন। বুধবার তার নাতনিতে দেখতে এসে দেখেন সে খুব অসুস্থ। পরে দেখেন তার পায়ুপথ ও যৌনাঙ্গে গভীর ক্ষত। এ ব্যাপারে তার পুত্রবধূকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি একেক সময় একে কথাবার্তা বলতে থাকেন। তার দাবি, পা পিছলে ভাতের গরম মাড়ের ওপর পড়ে গিয়ে শিশুটির এমন ক্ষত তৈরি হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মইনুল আতিক বলেন, শিশুটিকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার পায়ুপথ ছেঁড়া ছিল ও যৌনাঙ্গে দগদগে ঘা। আমাদের ধারণা, শিশুটি মারাত্মক যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলিফা আক্তার রিপার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমিনুল ইসলাম/এসআর/জিকেএস