ভাটায় ভেঙে পড়লো প্রতাপনগরের সেই মসজিদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ০৮ অক্টোবর ২০২১

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বায়তুন নাজাত জামে মসজিদটি ভেঙে পড়েছে। শুক্রবার (৮ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মসজিদটি খোলপেটুয়া নদীর ভাটার টানে ভেঙে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বেড়িবাঁধ ভেঙে ওই এলাকায় এখনো জোয়ার ভাটা চলছে।

প্লাবিত এলাকায় পানি সাঁতরে মসজিদটিতে আজান ও নামাজ আদায় করতেন মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মঈনুর রহমান। সম্প্রতি এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বন্যতলা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। এরপর এলাকাবাসী বাঁধটি মেরামত করলেও ঘূণিঝড় ইয়াসের সময় সেটি আবারো ভেঙে মসজিদ পর্যন্ত যায় এবং এর ভেতরেই নদীর জোয়ার ভাটা শুরু হয়। শুক্রবার সকালে ভাটার সময় মসজিদটি ভেঙে পড়ে।

মসজিদের ইমাম মঈনুর রহমান বলেন, আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদটি হঠাৎ ভেঙে পড়ে। এটি এখন ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয়েছে। পানি ওঠা বন্ধ হলে এখানে নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করা হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জোয়ার ভাটা চলছে। আজ সকালে মসজিদটি ভেঙে পড়েছে বলে শুনেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড একাধিক প্রকল্প নিয়েও পানি বন্ধ করতে পারেনি। তাদের গাফিলতির কারণে আজ এ অবস্থা। আগামীতে শীত মৌসুমে বেড়িবাঁধের মেরামত কাজটি সম্পন্ন হবে। তখন নতুন করে মসজিদ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হুসেইন খাঁন বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি। আগামীতে মসজিদের ভবন নির্মাণে সহযোগিতা করা হবে।

সম্প্রতি বন্যতলা এলাকার মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) নৌকার ওপর বিশেষভাবে নির্মিত একটি ভাসমান মসজিদ উপহার দেয় আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন। এরপর থেকে ওই এলাকার মানুষ নৌকায় নামাজ আদায় করছেন।

আহসানুর রহমান রাজীব/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]