বিয়েতে রাজি না হওয়ায় হত্যা: সেই কেয়ার বাড়িতে শোকের মাতম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২১

যশোরের অভয়নগরে সহকর্মী শ্রমিকের হাতে নৃশংস হত্যার শিকার কেয়ার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মাকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ কিশোরী মেয়ে মারিয়া খুনির ফাঁসি দাবি করেছে। স্বজনরাও ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে কেয়ার কর্মস্থল এসএএফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সোমবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার তালতলা এলাকায় যশোর-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন এসএএফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি চামড়ার মিলের ভেতরে পিটিয়ে আহত ও অ্যাসিডে ঝলসে দেওয়া হয় নারী শ্রমিক কেয়া খাতুনকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনার একটি হাসপাতালে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। হত্যার অভিযোগে শামীম হোসেন (৩৫) নামে এক শ্রমিককে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত কেয়া খাতুন অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের কাদিরপাড়া গ্রামের মৃত আবুল কালামের মেয়ে। গ্রেফতার শামীম হোসেন উপজেলার রাজঘাট মাইলপোস্ট এলাকার খন্দকার মোশারফ হোসেনের ছেলে। তারা উভয় একই মিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক ও নিহতের স্বজনরা জানান, স্বামী পরিত্যক্তা কেয়া তার ১৩ বছর বয়সী মেয়ে মারিয়াকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই করছিলেন। জীবিকা নির্বাহে ১০ বছর আগে শ্রমিক হিসেবে কাজ নেন শিল্পশহর নওয়াপাড়ার এসএএফ চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায়। সোমবার দুপুরে বিরতির সময় কারখানার ক্যান্টিনে বসেছিলেন কেয়া। এসময় তার পাশে এসে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন শামীম। প্রস্তাবে রাজি না হলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু। এক পর্যায়ে শামীম তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে কেয়ার মাথায় আঘাত করেন।

কেয়া মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মিলের ভেতর থেকে একটি মগে অ্যাসিড এনে তার শরীর ও মুখে ঢেলে দেন শামীম। কেয়ার চিৎকারে ক্যান্টিনের ভেতরে থাকা শ্রমিকরা শামীমকে ধরে মিল কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। খবর পেয়ে কর্তৃপক্ষ আহত কেয়াকে খুলনা আদ-দ্বীন হাসপাতালে পাঠায় এবং শামীমকে অভয়নগর থানা পুলিশে সোপর্দ করে।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সরেজমিনে নিহতের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, কেয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে তার বাড়িতে। মাকে হারিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছে তার একমাত্র মেয়ে মারিয়া।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম শামীম হাসান বলেন, পরকীয়া প্রেমের কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে আটক শামীম ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মিলন রহমান/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]