‌গুলি-মারধর-পোস্টার ছেঁড়ায় শুরু ধামরাইয়ের নির্বাচন

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি ধামরাই, ঢাকা
প্রকাশিত: ১১:৩৬ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

ঢাকার ধামরাইয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। আর প্রথম দিনেই চার ইউনিয়নে গুলি ছোড়া, মারধর ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা।

বুধবার দুপুরের দিকে প্রতীক বরাদ্দের পর বিকেলেই গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে রোয়াইল ইউনিয়নে। বিকেলের দিকে বালিয়া ইউনিয়নে মুখোমুখি দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজনের হাত ভেঙে যায়। এ ছাড়া মাগরিব নামাজের পরপর সোমভাগ ইউনিয়নে মারধরের শিকার হন প্রার্থীসহ ৪জন। সন্ধ্যার দিকে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নে পোস্টার লাগাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন আরেকজন।

এসব ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানায় লিখিত অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

জানতে চাইলে রোয়াইল ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম সামসুদ্দিন মিন্টু বলেন, বিকেলের দিকে আমি নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে ছিলাম। এ সময় হঠাৎ প্রায় ১০০-১৫০ মোটরসাইকেলে করে প্রায় ২০০ জনের মতো লোক আমার অফিসের সামনে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ওরা চাচ্ছিল আমরা যেনো প্রতিবাদ করি আর সংঘর্ষ বেধে যায়। কিন্তু আমরা পুরো সময় অফিসে বসে ছিলাম। তখন আমি বিষয়টি ওসি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করি। তারা আমাকে লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। আমি আগামীকাল অভিযোগ দেবো।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রোয়াইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন খান বলেন, আজকে কী হয়েছে আমি জানি না। সে যেমন অভিযোগ করেছে আমার সমর্থক কেউ এমন কাজে জড়াবে না বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

তিনি বলেন, সে (স্বতন্ত্র প্রার্থী) সবসময় মিথ্যা অভিযোগ করে। এর আগেও এমন অভিযোগ করেছিল।

সোমভাগে হামলায় আহত হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওলাদ হোসেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে বানেশ্বর পশ্চিম পাড়া মসজিদে নামাজ শেষে বেরিয়ে দেখি আজাহার আলীর সমর্থকরা মিছিল নিয়ে যাচ্ছে। পরে আমি আমার সমর্থকদের বলি ওই মিছিল চলে গেলে আমরা বের হবো। এ সময় ওই মিছিল থেকে উস্কানিমূলক কথা বলা হলে আমাদের এক সমর্থক সেটি ভিডিও করতে উদ্যত হয়। সেটি দেখে তারা সেই ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে আমার ওপর, আমার ছোট ভাই বাবু, সাইফুল, সুরুজসহ তিন-চারজনকে মারধর করা হয়। পরে আমিসহ সবাই ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেই।

তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আজাহার আলী এ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, মারামারির ঘটনা ঘটছে। তারা আমার অফিস ভাঙচুর করেছে। আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিতে আসছি।

এদিকে বালিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী নূরে আলম নান্নুর এক সমর্থকের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। একটু শুনেছি পোলাপান মারামারি করছে। আমি জানি না। অভিযোগের বিষয়টি আপনার কাছেই শুনলাম।

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের গান্ধুলিয়া গ্রামে পোস্টার লাগাতে গিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহমান আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগের বিষয়ে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাদের মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা না বলে ফোন রেখে দেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরাফাত উদ্দিন বলেন, পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক তদন্তে আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে সত্যতা পেয়েছি। তবে অভিযুক্ত কাউকে ঘটনাস্থলে পাইনি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা জেলা সিনিয়র রিটার্নিং অফিসার মনির হোসেন খান এ নিয়ে বলেন, এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। এসব বিষয় উপজেলা রিটার্নিং অফিসার আছেন, তারাই ব্যবস্থা নেবেন। নির্বাচনের দায়িত্ব তাদের। রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করলে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

এমএইচআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]