আগাছার দখলে ফেনীর স্মৃতিস্তম্ভ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফেনী
প্রকাশিত: ০৭:৩৫ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে আছে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়ায় স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভটি। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো স্তম্ভ এলাকা আগাছার দখলে চলে গেছে। সন্ধ্যা নামলেই দেশের সীমান্তবর্তী স্থান নির্মিত এ স্মৃতিস্তম্ভে বসে মাদকের আড্ডাও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর কর্নেল জাফর ইমাম বীর বিক্রমের নেতৃত্বে ফেনীর বিলোনিয়ায় সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এ যুদ্ধে ৩৭ জন বীর সেনানী মারা যান। আহত হন শতাধিক।

একাত্তরের যুদ্ধক্ষেত্র বিলোনিয়া উত্তর-দক্ষিণে দৈর্ঘ্যে ১৬ মাইল আর পূর্ব-পশ্চিমে প্রস্থে ছয় মাইল। এলাকাটি তিন দিক দিয়ে ভারতঘেরা। দেখতে অনেকটা উপ-দ্বীপের মতো। এর ভেতর দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে বয়ে গেছে মুহুরী নদী।

দেশের ভেতরে একটি দপ্তর স্থাপনের জন্য মুক্তিবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডাররা বিলোনিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন। এখানে দুটি বড় যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। প্রথম যুদ্ধটি হয় জুন-জুলাই মাসে। প্রায় দেড় মাস স্থায়ী এ যুদ্ধে ৩৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পাকিস্তান বাহিনীর ৩০০ জন হতাহত হন। পরে মুক্তিবাহিনী কৌশলগত কারণে দুই মাইল পেছনে গিয়ে মুহুরী নদীর তীরে ঘাঁটি করে।

এ এলাকায় দ্বিতীয় যুদ্ধটি ছিল ভয়াবহ। এ যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাফর ইমাম, মেজর জেনারেল ইমাম-উজ-জামান ও মেজর জেনারেল গোলাম হেলাল মোরশেদ খান বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত হন।

jagonews24

যুদ্ধের বর্ণনায় জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৫ নভেম্বরকে আক্রমণের দিন ঠিক করে প্রস্তুতি নিয়েছিল মুক্তিবাহিনী। ৪ নভেম্বর মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে রাতের অন্ধকারে মুক্তিবাহিনী ঢুকে পড়ে অপারেশন এলাকায়। সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট মিজানের নেতৃত্বে ব্রাভো কোম্পানি এবং সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট দিদারের নেতৃত্বে চার্লি কোম্পানি প্রথমে অগ্রসর হয়। চার্লি কোম্পানির পেছনে ছিল ক্যাপ্টেন মোরশেদের নেতৃত্বাধীন দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গলের একটি কোম্পানি। এর পেছনে ছিলেন এই যুদ্ধের অধিনায়ক মেজর জাফর ইমাম।

লেফটেন্যান্ট ইমাম-উজ-জামানের নেতৃত্বাধীন আলফা কোম্পানি মুহুরী নদীর পূর্ব পাড়ে ধনিকুন্ডা এলাকায় অবস্থান নেন। এ দলগুলো শত্রুর প্রতিরক্ষা অবস্থান ফাঁকি দিয়ে মুহুরী নদী পার হয়ে সলিয়া গ্রামে যান। এই সলিয়াতেই হয়েছিল সম্মুখযুদ্ধ।

তাদের স্মৃতিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পৌঁছে দিতে সেখানে ২০১০ সালে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করে গণপূর্ত প্রকৌশল বিভাগ।

পরশুরাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হুমায়ুন শাহরিয়ার বলেন, বিলোনিয়া স্মৃতিস্তম্ভটি দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্মিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতিময় এ স্থানটি দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্মৃতিস্তম্ভটি প্রতিবছরের ডিসেম্বর মাস এলেই পরিচ্ছন্ন করা হয়। বাকি সময়ে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা দত্ত জাগো নিউজকে বলেন, সলিয়ায় নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নুর উল্লাহ কায়সার/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]