পরকীয়া সন্দেহে ঝগড়া, গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে পরকীয়া সন্দেহে রাজিয়া বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত রাজিয়া উপজেলার চরসেন্সাস ইউনিয়নের বালার বাজার এলাকার জাকির হোসেন মোল্যার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাকির হোসেন ঢাকায় টেইলারিং দোকান চালান। তার স্ত্রী রাজিয়া বেগম ১১ বছরের ছেলে শান্ত মোল্যাকে নিয়ে গ্রামে থাকতেন। এদিকে রাজিয়ার সঙ্গে গ্রামের ফারুক বালার পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে সন্দেহ করতেন তার স্ত্রী পারভিন আক্তার। এ নিয়ে পারভিন ও রাজিয়ার মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রাজিয়ার বাড়িতে গিয়ে পারভিন আবারো ঝগড়া করেন। এ সময় পারভিনের ছেলে পিয়াল ও তার স্বামী ফারুক সেখানে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে তারা রাজিয়াকে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় রাজিয়ার ছেলে শান্ত মোল্যা মাকে বাঁচাতে এলে তাকেও দা নিয়ে তাড়া করা হয়। ওই শিশুর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
স্বজনরা রাজিয়াকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
রাজিয়া বেগমের স্বামী জাকির হোসেন মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, ‘ফারুক বালা, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার ও তাদের ছেলে পিয়ালসহ পাঁচজন মিলে আমার স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। সন্তানের সামনেই রাজিয়াকে তারা মেরে ফেলে গেছে। ছেলেটি সারাজীবন মায়ের হত্যার সাক্ষী হয়ে থাকবে। থানায় অভিযোগ দিয়েছি। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
ঘটনার পর থেকে ফারুক বালা তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পলাতক আছেন। এছাড়া তার মোবাইল নম্বরে কল দিয়েও বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, হত্যার ঘটনাটি জানার পর অভিযুক্তদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তারা এলাকা থেকে পালিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা নথিভুক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
মো. ছগির হোসেন/এসজে/এমএস