চুয়াডাঙ্গায় টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ
চুয়াডাঙ্গায় কার্যক্রম শুরুর তিনদিনের মাথায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রি। জেলা প্রশাসন বলছে, পণ্য রাখার জন্য পর্যাপ্ত গুদাম না থাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আগামী রোববার (২৭ মার্চ) থেকে আবারও টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হলেও পণ্য সংকটের কারণে গত বুধবার বিকেলে বন্ধ হয়ে যায় ইউনিয়ন পর্যায়ে টিসিবির খাদ্যপণ্য বিক্রির কার্যক্রম। গুদামে পণ্য না থাকায় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া, পদ্মবিলা, তিতুহদ ও বেগমপুর ইউনিয়নে পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র রমজান উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্যসামগ্রী বিক্রি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় গত ২০ মার্চ। ওইদিন সকালে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলার ৭৪ হাজার ৫৫৬ পরিবারের এই খাদ্যপণ্য পাওয়ার কথা রয়েছে।

প্রথম দফায় জনপ্রতি ছয় কেজি ও দ্বিতীয় দফায় আট কেজি মিলিয়ে মোট ১৪ কেজি খাদ্যপণ্য দেওয়া হয়। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল দুই কেজি সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও দুই কেজি চিনি। দ্বিতীয় দফায় দুই কেজি ছোলাও দেওয়া হয়। টিসিবির এ কার্যক্রমে তেল ১১০ টাকা, ডাল ৬৫ টাকা ও চিনি ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। এরইমধ্যে টিসিবির পণ্য দেওয়ার জন্য অসচ্ছল পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ শেষে করে তিনদিনে তাদের মধ্যে অন্তত ১২ হাজার জনকে খাদ্যপণ্য দেওয়া হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, টিসিবি থেকে আসা খাদ্যপণ্য চুয়াডাঙ্গার খাদ্যগুদামে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। সেখান থেকে ট্রাকযোগে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানো হয়। গুদামের ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় তুলনামূলক কম পরিমাণে খাদ্যপণ্য নিয়ে আসা হয়। গত বুধবার থেকে ওই গুদামে খাদ্যপণ্য কম থাকায় হাতে গোনা কয়েকটি স্থান ছাড়া সব স্থানে খাদ্যপণ্য বিক্রি বন্ধ রাখা হয়।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) জাকির হোসেন বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত গুদাম নেই। ত্রাণের গুদামে ৬০ মেট্রিক টনের বেশি পণ্য রাখা সম্ভব নয়। তাই খাদ্যগুদামেও কিছু মালামাল রাখা হয়। সেখানেও পর্যাপ্ত জায়গা নেই। একারণে ক্রমান্বয়ে টিসিবির মালামাল পাঠাতে আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। যেন ক্রমান্বয়ে আমরা বিতরণ করতে পারি। আগামী রোববার থেকে আবারও টিসিবির পণ্য বিক্রির কার্যক্রম শুরু হবে।
সালাউদ্দীন কাজল/এমআরআর/এএসএম