নাভিতে কোন তেল ব্যবহারে যেসব উপকার পাওয়া যায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
লাইফস্টাইল ডেস্ক লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৫ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: এআই

সাধারণত তেল আমরা মাথা বা শরীরে ব্যবহার করে থাকি। ত্বক ময়শ্চারাইজ করা, পেশি শিথিল রাখা কিংবা রক্তসঞ্চালন বাড়াতে তেলের ব্যবহার বহুদিনের। তবে সম্প্রতি নাভিতে তেল লাগানোর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, নাভিতে সরিষার তেল মাখলে ঠোঁট ফাটা কমে, ত্বক আর্দ্র থাকে বা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বাড়ে।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে নাভিকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তিকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গর্ভাবস্থায় এই অংশটি শিশুর পুষ্টির প্রধান উৎস ছিল-এই ধারণা থেকেই নাভির বিশেষ যত্নের কথা বলা হয়। যদিও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান নাভিতে তেল লাগানোর সরাসরি চিকিৎসাগত উপকারিতা নিশ্চিত করেনি, তবুও হালকা ম্যাসাজ শরীরকে শিথিল করতে পারে।

 fgh

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নাভির চারপাশে অনেক ক্ষুদ্র স্নায়ু ও রক্তনালি রয়েছে। এখানে হালকা ম্যাসাজ করলে প্রশান্তির অনুভূতি হতে পারে। কেউ কেউ জানান, এতে হজমশক্তি উন্নত হয় বা ত্বক নরম থাকে। তবে এসব দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত।

আসুন জেনে নেওযা যাক কোন তেল ব্যবহার করবেন-

সরিষার তেল
সরিষার তেল শরীর উষ্ণ রাখতে সহায়ক হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ঠান্ডা আবহাওয়ায় নাভির চারপাশে হালকা ম্যাসাজ করলে পেটের অস্বস্তি বা গ্যাসের সমস্যা কিছুটা কমাতে পারে বলে অনেকেই মনে করেন।

টি ট্রি অয়েল
টি ট্রি অয়েল নাভির যত্নে একটি জনপ্রিয় উপাদান হিসেবে পরিচিত। নাভি শরীরের এমন একটি অংশ, যেখানে সহজেই ঘাম, ময়লা ও মৃত কোষ জমে যেতে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণসম্পন্ন তেল ব্যবহার কিছু ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

টি ট্রি অয়েলে প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে, যা ত্বকের উপরের স্তরে জীবাণুর বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি সরাসরি বা অপরিশোধিত অবস্থায় নাভিতে ব্যবহার করা ঠিক নয়। টি ট্রি অয়েল খুবই ঘন (কনসেনট্রেটেড) হওয়ায় সরাসরি লাগালে জ্বালা, লালচে ভাব বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই এটি ব্যবহার করতে হলে নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েলের মতো অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া উচিত।

ghj

নারিকেল তেল
নারিকেল তেল ত্বক ময়শ্চারাইজ করতে বেশ কার্যকর এবং তুলনামূলকভাবে কোমল হওয়ায় অধিকাংশ ত্বকের জন্য উপযোগী। এটি ত্বককে নরম ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

পিরিয়ডের সময় অনেকেরই পেটের নিচের অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হয়। এ ক্ষেত্রে নারিকেল তেল একা বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক ফোঁটা নিয়ে পেটের নিচের অংশে খুব হালকাভাবে ম্যাসাজ করলে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। ম্যাসাজ রক্তসঞ্চালন কিছুটা বাড়াতে ও পেশির টান কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা ব্যথা লাঘবে সহায়ক হতে পারে।

ক্যাস্টর অয়েল
ক্যাস্টর অয়েল তার প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। পেটের চারপাশে পেশির টান বা শক্তভাব কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে, বিশেষ করে ঘুমানোর আগে অল্প পরিমাণে ব্যবহার করলে।

বাদাম তেল
বাদাম তেল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং ত্বককে নরম রাখার পাশাপাশি শরীরে প্রশান্তির অনুভূতি আনতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকের যত্নে উপকারী হতে পারে।

দেশি ঘি
দেশি ঘি আয়ুর্বেদে আর্দ্রতা ও পুষ্টির জন্য মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত। নাভিতে অল্প পরিমাণ ঘি ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা কমতে পারে এবং স্বস্তির অনুভূতি মিলতে পারে।

tyu

পেটের সমস্যায় কার্যকর
অনেকে বিশ্বাস করেন, হজমের সমস্যা, গ্যাস বা পেট ফাঁপায় নাভিতে তেল দিলে উপকার পাওয়া যায়। আদা বা পুদিনা এসেনশিয়াল অয়েল নারিকেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরাম মিলতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়। দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং বা তীব্র পেটব্যথা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

যেভাবে ব্যবহার করবেন
ঘুমানোর আগে নাভি হালকা গরম পানি ও পরিষ্কার কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। নাভি পরিষ্কার করে ২-৩ ফোঁটা তেল বা ঘি লাগান। এরপর ঘড়ির কাঁটার দিকে প্রায় পাঁচ মিনিট আলতো করে ম্যাসাজ করুন। কোনো রকম জ্বালা, চুলকানি বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করুন।

মনে রাখতে হবে, নাভিতে তেল লাগানো একটি পুরোনো সহায়ক পদ্ধতি। এটি কোনো রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা নয়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, বোল্ডস্কাই

আরও পড়ুন:
চুল পড়া বন্ধ হবে রসুন ব্যবহারে
রমজানে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করুন ঘিয়ের ফেসপ্যাক 

এসএকেওয়াই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।