তিল ধারণের ঠাঁই নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৩:৫৯ পিএম, ০৭ এপ্রিল ২০২২
বেড না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল (সদর) হাসপাতালে ৭১ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বরাদ্দ বেডের চেয়ে চার গুণ বেশি রোগী ভর্তি আছেন। সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহে হঠাৎ করে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য ২০টি বেড রয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) দেড়টায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডায়রিয়া বিভাগে ১০৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। বেডের বাইরে ভর্তি থাকা রোগীরা হাসপাতালের বারান্দায় ও করিডোরে মেঝেতে বিছানা পেতে রয়েছেন। রোগী ও তাদের স্বজনদের কারণে হাসপাতালের করিডোর ও বারান্দা দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না।

হঠাৎ ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ফাইজুর রহমান ফয়েজ জাগো নিউজকে বলেন, গরমের কারণে এখন অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। গরমে অনেকে ফুটপাতে বিক্রি করা শরবত ও ভাজা-পোড়া খাচ্ছেন, ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার এটাও একটি কারণ। ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও পানি পান করতে হবে। নিজেদের সচেতনতায় এই রোগ থেকে বাঁচার প্রধান হাতিয়ার।

jagonews24

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ওয়াহিদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি, আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাবে। প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছেন, আবার অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। গতকাল বুধবার থেকে আজকে হাসপাতালে রোগী কম ভর্তি রয়েছেন। বুধবার হাসপাতালে ১১৭ জন রোগী ভর্তি ছিল, আজকে রয়েছেন ১০৬ জন।

তিনি আরও বলেন, ডায়রিয়া বিভাগে বেড সংখ্যা ২০টি হলেও আমরা আরও ১২টি বেড সংযোজন করেছি। তবুও রোগীর সংকুলান হচ্ছে না। হাসপাতালে ওষুধের সমস্যা হচ্ছে না। স্যালাইন শেষ হয়ে যাওয়ায় ঢাকায় লোক পাঠানো হয়েছে, ঢাকা থেকে স্যালাইন আসার আগ পর্যন্ত সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে ব্যবস্থা করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এমআরআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।