রাজবাড়ীতে বেড সংকটে গাছতলায় ডায়রিয়ার রোগীর চিকিৎসা
সারাদেশের মতো রাজবাড়ীতেও বেড়েছে ডায়রিয়ায় প্রকোপ। হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর চাপও। জেলা সদর হাসপাতালেও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী বেড়েছে কয়েকগুণ। রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সোমবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের গিয়ে এমনটা জানা যায়। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১২ বেডের বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ২২ জন রোগী। বেড না পেয়ে অনেকে ওয়ার্ডের ফ্লোর, বাইরের গাছতলা ও ড্রেনের পাশে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রোগী রিমন জানান, সকালে তিনি ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। তখন অনেক রোগী ছিল। দুপুরের দিকে কিছু রোগী কমেছে।
রোগীর স্বজন ফারুক, আয়ুব, নাজমা, বন্যাসহ কয়েকজন জানান, হাসপাতালের চিকিৎসা ভালো পেলেও বেড না পেয়ে এ গরমে বাইরে গাছ ও ছামিয়ানার নিচে থাকতে হচ্ছে। এতে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিষয়টি দেখার জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মিনতি রায় চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, রাত ১২টা এক মিনিট থেকে দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২২জন রোগী ভর্তি হয়েছে। আগেরদিন ভর্তি হওয়া ২২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। রোগী আসার সঙ্গে সঙ্গে যা যা করণীয় তার সবই করছি। বর্তমানে রোগীর চাপে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ওয়ার্ডে ১২টি ও ১০টি ফ্লোরিংয়ের ব্যবস্থা আছে। বেড সংখ্যা কম থাকলেও ওষুধপত্র সব পর্যাপ্ত আছে। সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জাগো নিউজকে বলেন, রাজবাড়ীতে গত কয়েকদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। ফলে ফ্লোরেও রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে চিকিৎসার কোনো সমস্যা হচ্ছে না। পর্যাপ্ত স্যালাইন ও নার্সরা আছে। চাপ থাকায় অল্প সময়ের জন্য কয়েকটা রোগী বাইরে ছিল।
তিনি আরও বলেন, কেউ ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে পানি শূন্যতা যেন না হয় এ জন্য পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে। তবে কোনো রোগীর পাতলা পায়খানার সঙ্গে বমি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা নিতে হবে। রোগীর সংখ্যা বেশি হলে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
রুবেলুর রহমান/এসজে/জেআইএম