জানা গেলো সেই কিশোরের আত্মহত্যার চেষ্টার কারণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২২
থানা ভবনের সানসেটে দাঁড়িয়ে কিশোর

কক্সবাজার সদর থানা ভবনের চারতলার সানসেটে উঠে লাফিয়ে কিশোরের আত্মহত্যার চেষ্টার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। প্রেমিকার মৃত্যুর বিচারের জন্য পুলিশের সুদৃষ্টি পেতে এমন অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়েছে সে।

বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গীয়াস।

তিনি বলেন, ভবনের বর্ধিতাংশ নির্মাণ কাজের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী সিঁড়ি বেয়েই কিশোরটি চারতলার সানসেটে ওঠে। ধারালো কাটার দিয়ে নিজের হাতের রগ কাটে সে। এতে অনেক রক্তক্ষরণ হয়। নানাভাবে বুঝিয়ে তাকে সানসেট থেকে নামানোর পর দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দিয়ে রাতে স্বাভাবিক হলে তার সঙ্গে কথা হয়।

ওসি গীয়াস আরও বলেন, স্বাভাবিক জ্ঞান আসার পর কিশোর আমাকে খোঁজে। এ সময় বাবা-মা ও স্বজনরা তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সবাইকে এড়িয়ে যায়। আমি গেলে সানসেটে ওঠার আগে তার লেখা একটি চিরকুট (সুইসাইড নোট) আমার হাতে দেয়। ওই চিরকুটে পুলিশকে তার প্রেমিকা সুবহা নামের এক কিশোরীর আত্মহত্যার বিচার পাইয়ে দিতে অনুরোধ জানায়।

চিরকুটে সুবহাকে প্রেমিকা দাবি করে ওই কিশোর লিখে, ২০২০ সালে সুবহার সঙ্গে তার পরিচয় গত রমজানে সুবহাকে তার বাবা যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় তার বাবা মায়ের সংসার ভেঙে যায়। একপর্যায়ে বাবার যৌন নির্যাতনের চেষ্টা এবং পারিবারিক কলহে সুবহা আত্মহত্যা করে।

সুবহার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে উল্লেখ করে ওই কিশোর আরও লিখে, যাদের কারণে সুবহা পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে সে অনেকের কাছে ধরনা দিয়েছে। কিন্তু কেউই তাকে সহযোগিতা করেনি। সুবহাকে বিচার পাইয়ে দিতে না পারায় সেও পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছে।

ওসি গীয়াস বলেন, সুইসাইড নোটে উল্লেখ করা সুবহার মৃত্যুর ঘটনাটি বেশ ভয়াবহ। যদি সেটি সত্যি হয়, তাহলে ওই ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস ছেলেটিকে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, অতি আবেগে না দেখা এক কিশোরীর জন্য পাগলামি করে বসে ছেলেটি। এটি বয়সের দোষ। কিছুদিন কাউন্সিলিং করে সবাই বন্ধুর মতো আচরণ করলে স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

শনিবার বিকেলে সবার অগোচরে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভবনের সানসেটে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করে দশম শ্রেণির ছাত্র। রাউন্ড ডিউটি শেষে ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস এ দৃশ্য দেখে কিশোরের সঙ্গে মাইকে কথা বলেন। তার সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে নানা কথা বলতে বলতে ওসিও ওপরে উঠে কিশোরকে নিচে নামাতে সক্ষম হন। এর আগেই ছেলেটি ধারালো কাটার দিয়ে নিজের হাত কাটে, যা দিয়ে অনবরত রক্ত ঝরছিল। পরে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।