নদী পার হয়েই ঘরমুখো যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০১:১৩ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০২২

পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কর্মস্থল ছেড়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ। ফলে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে। শনিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর থেকে দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ দেখা যায়।

যাত্রীবাহী পরিবহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানে ফেরিঘাটে আসছেন যাত্রীরা। এছাড়া লঞ্চেও রয়েছে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড়।

তবে নদী পার হয়ে দৌলতদিয়া প্রান্তে এসে যাত্রীরা ভাড়া বিড়ম্বনায় পড়ছেন। লোকাল রুট দৌলতদিয়া টু রাজবাড়ী, পাংশা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাস, মাহেন্দ্রা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। সেইসঙ্গে প্রশাসনের নজরদারির অভাব বোধ করছেন যাত্রীরা।

দৌলতদিয়া লঞ্চ ও ফেরি ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ফেরি ও লঞ্চে করে রাজবাড়ী গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে আসছেন যাত্রীরা। প্রতিটি ফেরিতে বাস, প্রাইভেটকারের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে মোটরসাইকেল আসছে।

একইচিত্র পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলোতেও। দৌলতদিয়া ঘাটে আসা প্রতিটি লঞ্চে যাত্রীদের চাপ ছিলো চোখে পড়ার মতো। ফেরি ও লঞ্চে আসা লোকাল যাত্রীরা ঘাটে নেমে রিকশা, ইজিবাইক ও হেঁটে বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছে। সেখান থেকে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বাস, মাইক্রোবাস, মাহেন্দ্রা ও মোটরসাইকেলে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা।

অতিরক্তি ভাড়া না আদায়ের জন্য সচেতনতামূলক মাইকিং ও ব্যানার দেখা গেলেও প্রশাসনের উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি।

Rajbari-(1).jpg

জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে দৌলতদিয়া থেকে রাজবাড়ীর ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কিন্তু এখন যাত্রীদের থেকে নেওয়া হচ্ছে ১ থেকে দেড়শ টাকা। পাংশার ৮০ থেকে ৯০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে দেড় থেকে ২শ টাকা। কুষ্টিয়ার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে আড়াই থেকে তিনশ টাকা। ফরিদপুরের ৫০ থেকে ৬০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১শ টাকা। এছাড়া অন্যান্য রুটেও বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

ঘরমুখো যাত্রী আবুল বাশার, হেলাল খাসহ একাধিক যাত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জ, গাবতলীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা বাড়তি ভাড়া দিয়ে এসেছেন। কিন্তু দৌলতদিয়ায় এসে তারা ভাড়ার কথা শুনে অবাক। যে ভাড়া ৫০ টাকা ছিলো, সেই ভাড়া এখন ১ থেকে দেড়শ টাকা। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।

মাহেন্দ্রা চালক রাকিব ও ইজিবাইক চালক আসিফসহ একাধিক চালক জানান, ঈদের সময় তারা একটু বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। তবে নির্দিষ্ট না, যার কাছ থেকে যেমন পারছেন তেমনই নিচ্ছেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল হক খান বলেন, ঘাট ও টার্মিনাল এলাকায় তাদের প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সু-নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাননি। তারপরও বিষয়টি তিনি নিজে পর্যালোচনা করবেন।

রুবেলুর রহমান/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।