ঈশ্বরদীতে ‘চোর সন্দেহে’ তরুণকে পিটিয়ে হত্যা
ঈশ্বরদীতে চোর সন্দেহে রাব্বি হোসেন চঞ্চল (২০) নামে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া পুরাতন রেললাইন চৌধুরীপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
রোববার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ গণপিটুনিতে চঞ্চলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তার নামে দুটি চুরি ও দুটি মাদকের মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, শনিবার দিনগত রাতে চঞ্চলসহ চারজন পুরাতন রেললাইনের চৌধুরীপাড়া এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। এলাকার লোকজনের সন্দেহ হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাক দেন। এসময় অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে গেলেও চঞ্চল ধরা পড়েন। পরে চঞ্চলকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখা হয়। সকালে সাঁড়া ইউনিয়ন অফিসে নেওয়া হলে চেয়ারম্যান দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। চঞ্চলের শরীরে হাতুড়ি, লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ওসি আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চঞ্চলকে ভর্তি না করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়। ভ্যানে করে বাড়ি নেওয়ার পথে অবস্থার অবনতি হলে চঞ্চলকে আবারও হাসপাতালের নেওয়ার পথে রোববার দুপুর ২টায় তিনি মারা যান। এসময় শহরের রেলগেট এলাকায় মরদেহসহ ভ্যান ফেলে এলাকার লোকজন পালিয়ে যায়।
সাঁড়া ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার বলেন, রাতে পেটানোর পর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিয়ে আসলে আমি পরিষদ চত্বরে ঢুকতে বাধা দিই। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে পরামর্শ দিই। এখন শুনছি, ওই ছেলে মারা গেছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাদিয়া বলেন, সকাল ৯টার দিকে চঞ্চলকে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেসময় তার অবস্থা গুরুতর ছিল না। তাই তাকে ভর্তি করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, পরে আবারও তাকে মারধর করা হয়েছে বলে চঞ্চলের আত্মীয়দের কাছে শুনেছি। পরে দুপুর ২টার দিকে চঞ্চলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
এমআরআর/জিকেএস