ট্রেনের টিটিইকে এএসআইয়ের গুলি করার হুমকি, ঘটনা তদন্তে কমিটি
ট্রেনের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আব্দুল আলীম মিঠুকে গুলি করার হুমকির ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মে) রাতে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক শাহিদুল ইসলাম তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কমিটিতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী শিপন আলীকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) একে এম নূরুল আলম ও পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিন উল ইসলাম।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন থেকে দায়িত্ব পালন শুরু করেন টিটিই আব্দুল আলীম মিঠু। ট্রেন পরিচাক (গার্ড) ইকবাল মাহমুদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি টিকিট পরীক্ষা করছিলেন। দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি বড়ালব্রিজ ও জামতৈল স্টেশনের মাঝামাঝি পৌঁছালে ট্রেনটির করিডোর বগিতে বেশকিছু যাত্রী দেখতে পান তিনি।
তাদের টিকিট পরীক্ষা করতে চাইলে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রোবেল মিয়াসহ তার সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন। তারা ওই যাত্রীদের ‘নিজেদের লোক’ দাবি করেন এবং টিকিট কাটা বা জরিমানা করার ক্ষেত্রে বাধা দেন।
এরপরও টিটিই মিঠু টিকিট পরীক্ষা করতে ওই বগিতে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করার হুমকি দেন এএসআই রোবেল। এমনকী তাকে হাতকড়া পরাতেও উদ্যত হন এএসআই রোবেল। এ সময় ট্রেনের অন্য যাত্রীরা তাকে বাধা দেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
ভুক্তভোগী টিটিই আব্দুল আলীম মিঠু বলেন, ‘বাধা দিলেও আমরা বিনা টিকিটের আট যাত্রীকে জরিমানা করা শুরু করি। এ সময় ট্রেনে দায়িত্বরত এএসআই রোবেল আমাকে গুলি করার হুমকি দেন এবং হাতকড়া পরিয়ে গ্রেফতারের চেষ্টা করেন।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এএসআই রোবেল মিয়া বলেন, গুলি করার কথা বলিনি, এটা মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, ওই বগিতে আমার সঙ্গে থাকা কনস্টেবল ফারুকের সঙ্গে গার্ড ইকবাল মাহমুদের কথা হয়। আমি পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় ইকবাল কনস্টেবল ফারুককে বলেন ইনি কে? তখন আমি বলি- ‘আমাদের গায়ে পোশাক দেখে চিনতে পারছেন না আমি কে?’ এ সময় পাশে থাকা টিটিই আব্দুল আলীম মিঠু আমাদের গালিগালাজ করেন। আমি একটু উঁচুস্বরে বলি গালিগালাজ করলে একদম হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দেবো।’ এ সময় ট্রেনের লোকজন বুঝিয়ে বললে বিষয়টা মিটমাট হয়ে যায়। এছাড়া আর কোনো ঘটনা ঘটেনি। গুলি করার হুমকির কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ট্রেনের গার্ড ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘এএসআই রোবেল মিয়া আমাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। এ ঘটনায় উপস্থিত গার্ড, টিটিই, অ্যাটেনডেন্টসহ ট্রেনে উপস্থিত যাত্রীরাও হতবাক হয়ে যান।’
এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম বলেন, ‘টিটিই আব্দুল আলিম মিঠু অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং কর্তব্যপরায়ণ। বিষয়টি আমি শুনেছি। ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পাকশী রেলওয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) সাহাব উদ্দিন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট টিটিই, গার্ড ও এএসআইকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা বিস্তারিত শুনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ৫ মে পাবনার ঈশ্বরদী রেল জংশন থেকে টিকিট ছাড়া ট্রেনে ওঠেন ‘রেলপথমন্ত্রীর আত্মীয়’ পরিচয়দানকারী তিন যাত্রী। টিকিট না কাটলেও তারা রেলের এসি কেবিনের সিট দখল করেন। এতে দায়িত্বরত টিটিই তাদের জরিমানা করেন। পরে ওই তিন যাত্রী তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় বলে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে টিটিই শফিকুল ইসলামকে ওই রাতেই সাময়িক বরখাস্ত করে রেল কর্তৃপক্ষ।
এসআর/এএসএম