সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহ নেই কৃষকদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:১৭ পিএম, ০৩ জুন ২০২২
বাজারে বিক্রির জন্য জমাকৃত ধান

চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে ১৮ হাজার ৭৬৫ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ হচ্ছে না।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্র জানায়, ২৩ এপ্রিল থেকে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হলেও সোমবার (৩০ মে) পর্যন্ত ধান সংগ্রহের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৭ টনে। যা প্রয়োজনের তুলনায় কম।

তাড়াশ সদর ইউনিয়নের কৃষক মনসুর রহমান জানান, দুই বিঘা ধান আবাদ করতে খরচ হয়েছে বিশ হাজার টাকা। তারপরও এবছর অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে পানি জমে ছিল। যার কারণে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি বেশি দিয়ে ধান কাটতে হয়েছে। এতে ধান উৎপাদনে খরচ বেশি হয়েছে। সরকারিভাবে ধানের মূল্য দিচ্ছে এক হাজার ৮০ টাকা। বাজারে সে ধানের দাম দিচ্ছে ১১০০-১২০০ টাকা। তাহলে কেন সরকারিভাবে ধান বিক্রি করবো।

বেলকুচি উপজেলার চরবেল গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম জানান, এবছর ধানের বাজারদর একটু বেশি। সরকারি গুদামে ধান চেয়েছিল দাম কম হওয়ায় সেখানে বিক্রি করিনি। লোকসান দিয়ে তো ধান বিক্রি করবো না।

jagonews24

শাহজাদপুর উপজেলার আমিরুল ইসলাম, এনামুল হক, চানু ফকিরসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, সরকারি গুদামে ধানের দর কেজিপ্রতি ২৭ টাকা দিচ্ছে। বিভিন্ন হাটে ব্যাপারীরা কিনছেন তার চেয়ে বেশি দামে। যদি হাটে সরকারি দামের চেয়ে বিক্রি করে বেশি টাকা পাই তাহলে আমরা কেন সরকারি গুদামে ধান দেব।

তারা আরও বলেন, সরকারিভাবে ধান বিক্রি করলে টাকা পেতে নানা ধরনের সমস্যা পোহাতে হয়। তাছাড়াও যানবাহনের ভাড়াসহ খরচ বেশি পড়ে। আর ব্যাপারীদের কাছে ধান বিক্রি করলে সঙ্গে সঙ্গে টাকা পাই আর সে সঙ্গে ধানের দামও বেশি পাই।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজে জানান, এপ্রিলের ২৩ তারিখ থেকে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ শুরু করি। এ বছরে আমাদের ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১৮ হাজার ৭৬৫ টন। এ পর্যন্ত ২৩৭ টন বা তার চেয়ে একটু বেশি সংগ্রহ হয়েছে। আমাদের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।