বন্যাকবলিত লালমনিরহাটে খাবার পানির সংকট
পাহাড়ি ঢলে তিস্তা, ধরলা, রত্নাই, সানিয়াজান ও স্বর্ণামতি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে গত পাঁচদিন ধরে লালমনিরহাট জেলার ৫ উপজেলার প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২০ জুন) সকাল ৯টায় হাতীবান্ধার দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ৫২.৫৬ সেন্টিমিটার যা বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে রেকর্ড করা হয়েছে।
কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠলে জেলায় চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। ফলে নদী তীরবর্তী জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ, আদিতমারী ও সদরের বিশ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সেই পানি এখনো আছে। হাঁটু থেকে কোমরপানিতে বন্দি এসব লোকজন রান্না ও টয়লেট নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।
স্কুল-কলেজ পানিতে ডুবে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। শুকনো খাবার ও নিরাপদ পানির সংকট দেখা দিয়েছে এলাকায়। এছাড়া গবাদি পশু-পাখি নিয়েও অসহায় অবস্থায় রয়েছেন তিস্তা পারের লোকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা ও ধরলার পানি বৃদ্ধি ও জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা,পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর, খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলেরপ্রায় বিশ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাইদুল ইসলাম জাগো নিউজ বলেন, পানিবন্দি ৫ হাজার ৮শ পরিবারের মাঝে শনিবার ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। আরও বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
আদিতমারী উপজেলার কালমাটি এলাকার আশরাফ আলী জানান, মাত্র ১০ কেজি চাল পেয়েছি। ঘরে পানি ওঠায় রান্না করার কোনো ব্যবস্থা নেই। শুকনো খাবার খেয়ে আছি। ঘরে খাবার পানি নেই, পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন পার করছি।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল জানান, ওই ইউনিয়নটি নদীবেষ্টিত হওয়ায় প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি। ত্রাণ সহায়তা পাওয়া গেছে মাত্র এক হাজার। বাকি দুই হাজার পরিবার ত্রাণ সহায়তা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাই দ্রুত এসব মানুষকে ত্রাণ দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ করছি।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর জাগো নিউজকে বলেন, বন্যা কবলিত জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বন্যা কবলিত যেসব এলাকা আছে সেগুলোতে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, তিস্তার পানি কমলেও ধরলার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীভাঙন রোধে বিভিন্ন জায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রবিউল হাসান/এফএ/জেআইএম