এবার বরিশালে ৩ নবজাতকের নাম রাখা হলো স্বপ্ন-পদ্মা-সেতু
বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন নুরুন্নাহার বেগম (২১) নামের এক গৃহবধূ।
দুদিন পর স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ওই তিন শিশুর নাম রাখা হয়েছে স্বপ্ন, পদ্মা ও সেতু।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) সকাল ৯টার দিকে নগরীর সদররোড ডা. মোখলেছুর রহমান (প্রা.) হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে একসঙ্গে তিন সন্তান জন্ম দেন নুরুন্নাহার বেগম।

নুরুন্নাহার বেগম বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের বাদলপাড়ার এলাকার বাবু সিকদারের স্ত্রী। বাবু সিকদার পেশায় ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালক।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নুরুন্নাহার বেগম ৩৬ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তীব্র প্রসব বেদনা উঠলে স্বজনরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জরুরি ভিত্তিতে ডা. মুন্সী মুবিনুল হক নুরুন্নাহার বেগমের অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিন কন্যাসন্তানের জন্ম দেন নুরুন্নাহার বেগম। বর্তমানে তিনি হাসপতালের তিনতলায় জেনারেল বেডে চিকিৎসাধীন।

নবজাতকদের বাবা বাবু সিকদার জানান, তার স্ত্রী নুরুন্নাহার অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় নগরীর চাদমারী ইসলামিয়া হাসপাতালে ডা. তানিয়া আফরোজকে দেখিয়েছেন। বুধবার (২২ জুন) রাতে নুরুন্নাহারের প্রসব বেদনা ওঠে। সকালে ডা. তানিয়া আফরোজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিকেল ছাড়া সময় দিতে পারবেন না বলে জানান। কিন্তু নুরুন্নাহার তীব্র প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলেন। তখন ডা. মুবিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ডা. মোখলেছুর রহমান (প্রা.) হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আসতে বলেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিন কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
বাবু সিকদার বলেন, একসঙ্গে তিন কন্যাসন্তানের বাবা হতে পেরে আমি অনেক খুশি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। নবজাতকদের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
ডা. মুন্সী মুবিনুল হক জানান, তিন নবজাতকের মধ্যে দুই শিশুর ওজন দেড়কেজি করে, অপর শিশুর ওজন ১ কেজি ৪০০ গ্রাম। স্বাভাবিক নবজাতকের তুলনায় তাদের ওজন কিছুটা কম। তবে মা ও সন্তানরা সুস্থ আছেন। বাচ্চাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখতে হয়নি। আশা করছি ৩-৪ দিনের মধ্যে মা ও সন্তানরা বাড়ি ফিরতে পারবেন।
সাইফ আমীন/এসআর/জেআইএম