১৮ বছর ধরে অকেজো আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০৫:০২ পিএম, ২৫ জুন ২০২২
আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রায় ১৮ বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন। এছাড়া হাসপাতালে নেই আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনও। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

জানা গেলো, গত মে মাসে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় হাসপাতালটিকে উন্নীত করা হয়। তবে শয্যা বাড়লেও আগের লোকবল দিয়েই চলছে কার্যক্রম। ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ।

হাসপাতাল ঘুরে জানা যায়, ২০০২ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিনটি মাত্র ১১ দিন চলার পর অকেজো হয়ে যায়। এর পর প্রায় ১৮ বছর কেটে গেলেও সেটি সচল হয়নি। এতবছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় এর যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পথে। এতে তিস্তা তীরবর্তী অঞ্চলের দরিদ্র মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে সেবা নিচ্ছেন। বছরের পর বছর এ জরুরি মেশিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

jagonews24

অপরদিকে, হাসপাতালে সরকারি দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও একটি গত দুই মাস ধরে নষ্ট অবস্থা পড়ে আছে।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে উপজেলাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠিত হয় আদিতমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে উপজেলাটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানকার লোকজন চিকিৎসাসেবায় অনেকটা পিছিয়ে ছিলেন। চলতি বছর হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ যোগদানের পর চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফিরে আসে। এরইমধ্যে হাসপাতালটি সারাদেশের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে ৩৬তম ও রংপুর বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।

jagonews24

সূত্র মতে, ৫০ শয্যার উন্নীতের ফলে হাসপাতালে পাঁচজন সহকারী সার্জনসহ ছয়জন বিশেষজ্ঞ পদ তৈরি হয়েছে। এসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদায়ন হলে হাসপাতালে বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা মিলবে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আফরিন নাহার বলেন, গত কয়েকদিন থেকে মেয়ের জ্বর। শিশু ডাক্তারকে দেখিয়েছি। কিছু ওষুধ হাসপাতালে থেকে পেয়েছি আর কিছু বাইরে থেকে কিনতে হবে।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌফিক আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিছু জনবল সংকট রয়েছে। হাসপাতালের জন্য একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ হয়েছে। সেটি খুব দ্রুত চালু হবে।

jagonews24

তিনি আরও জানান, জেনারেটর সার্ভিস, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রোগীদের উন্নতমানের খাবার সরবরাহসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম ভালো রয়েছে, যা সব মহলে প্রশংসিত।

তিনি বলেন, যোগদানের পর থেকে স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছি।

রবিউল হাসান/এমআরআর/এএইচ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]