শ্রমিকদের অবরোধে দুর্ভোগে লালমনি এক্সপ্রেসের যাত্রীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০২:৩১ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২২

লালমনিরহাটে টিএলআর শ্রমিক পদ বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবরোধ করেছেন রেলওয়ে টিএলআর কর্মচারীরা। এতে ঢাকাগমী লালমনি এক্সপ্রেসসহ লালমনিরহাট-রংপুর-পার্বতীপুর, লালমনিরহাট শান্তাহারগামী ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

রোববার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনে টিএলআর শ্রমিকদের শুরু হওয়া এ আন্দোলনে শত শত শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।

জানা গেছে, রেলওয়ের টিএলআর কর্মচারীরা দীর্ঘদিন থেকে রেলওয়ের বিভিন্ন পদে চাকরি করে আসছেন। তবে হঠাৎ করেই গত ৩০ জুন থেকে টিএলআর বন্ধ করে দিয়ে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোকবল নিয়োগ দেওয়ায় কয়েক হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। এর প্রেক্ষিতে রোববার সকাল থেকে লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনের কয়েক হাজার কর্মী আন্দোলনে যান।

এদিকে এই শ্রমিক (টিএলআর) আন্দোলনের কারণে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকাগামী কয়েকশো যাত্রী। পরে বেলা ১১টার দিকে লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

Lal-(2)

লালমনিরহাট রেলওয়ের অনিয়মিত শ্রমিকদের (টিএলআর) সভাপতি মো. জুয়েল বলেন, আমি দীর্ঘ ২০ বছর গেটকিপার হিসেবে চাকরি করছি। কিন্তু হঠাৎ করেই গত ৩০ জুন থেকে টিএলআর’র পদগুলো বন্ধ করে দিয়ে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা বেকার হয়ে পড়ি। সারাদেশে প্রায় ২০ হতে ২৫ হাজার কর্মী এভাবে চাকরি করে আসছি। আমাদের কর্মসংস্থান বন্ধ করে আউট সোর্সিংয়ে লোক নিয়োগ দিলে আমরা কিভাবে বাঁচব? আমরা আউট সোর্সিং চাই না। আমরা যেভাবে চাকরি করে আসছি সেভাবেই করবো।

রেলওয়ে ডিভিশনের ডিটিএসের দায়িত্বে থাকা আব্দুল্লাহ আল মামুন শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, তাদের চাকরি না থাকলে রেলওয়ের অনেক ক্ষতি হবে। লালমনি এক্সপ্রেসসহ প্রতিদিন যে ট্রেনগুলো চলে সেগুলোসহ কয়েকটি স্টেশন বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে রেলের উপর মহলের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব।

লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছে। তবে যেহেতু এটি সরকারি সিদ্ধান্ত সেজন্য আলোচনা করা দরকার। আমরা তাদের চাকরি স্থায়ীকরনের বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।

রবিউল হাসান/এফএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]