প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ভাতিজিকে হত্যা, চাচাসহ ২ জনের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:৪৪ পিএম, ১৯ জুলাই ২০২২
ফাইল ছবি

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রতিবন্ধী ভাতিজি চায়না খাতুনকে (১১) হত্যার দায়ে চাচাসহ দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৩) ও মেম্বার আকবর আলি (৪৪)

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জেলার বেলকুচি থানার ছোট বেড়া খারুয়া এলাকায় সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার চাচাতো ভাইদের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধের কারণে সাদ্দাম তার চাচাতো ভাইদের ফাঁসাতে নিজের বড় ভাইয়ের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ে চায়না খাতুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এ নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্যা আকবর আলীর সঙ্গে পরামর্শও করেন।

২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর ভাতিজি চায়না খাতুন চাচা সাদ্দামের বাসায় বেড়াতে যায়। রাতে সাদ্দাম তার বাবার ঘর থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় ভাতিজি চায়না খাতুনকে বাড়ির বাইরে এনে গলা টিপে হত্যা করে। মরদেহ কাঁধে চরের ভেতরে নিয়ে ছুরি দিয়ে গলা কাটেন সাদ্দাম। পরদিন বেড়া খারুয়ার চরে চায়না খাতুনের মরদেহ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে চায়না খাতুনের বাবা জহুরুল চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে বেলকুচি থানায় হত্যা মামলা করেন। তবে বেলকুচি থানা পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য আকবর আলীর প্ররোচনায় চাচা সাদ্দাম ভাতিজিকে হত্যা করেন।

সাদ্দাম ও আকবর আলী হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ১১ জন সাক্ষীর উপস্থাপনে দোষ প্রমাণিত হওয়ায় দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তাদের আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।